বিনোদন জগতের অন্যতম বৃহৎ দুই প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা মিলেছে। ডেভিড এলিসনের নেতৃত্বাধীন প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স এই চুক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি শক্তিশালী সার্বভৌম তহবিলের কাছ থেকে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ লাভ করেছে।
সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’ নিশ্চিত করেছে যে, এই ২৪ বিলিয়ন
ডলারের মধ্যে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড একাই দিচ্ছে ১০ বিলিয়ন ডলার। বাকি
অর্থ কাতার এবং আবুধাবির রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত তহবিল থেকে আসবে বলে জানা গেছে। এই বিশাল
অংকের বিনিয়োগ ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণে প্যারামাউন্টকে শক্তিশালী অবস্থানে
নিয়ে যাবে।
ওরাকল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বের অন্যতম
শীর্ষ ধনী ল্যারি এলিসন (ডেভিড এলিসনের বাবা) এই চুক্তিতে ৪৬.৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত
বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই তহবিলগুলো আসায় এখন ল্যারি এলিসনের
ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা কমবে। অন্যদিকে, চীনের গেমিং জায়ান্ট ‘টেনসেন্ট’ বিদেশি মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার
কারণে শুরুতে বাদ পড়লেও বর্তমানে তারা আবারও বিনিয়োগকারী হিসেবে ফিরে এসেছে বলে জানা
গেছে। ১১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিশাল চুক্তিটি এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের
অপেক্ষায় রয়েছে। গত মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, রাজনৈতিক কারণে বা এলিসন পরিবারের
সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সখ্যের খাতিরে এই অনুমোদন প্রক্রিয়াকে দ্রুত করা হবে না।
এদিকে সাতজন ডেমোক্রেটিক মার্কিন সিনেটর
এই চুক্তিতে বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য ফেডারেল কমিউনিকেশনস
কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। তারা জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের
বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের
এই তিনটি তহবিল ব্যবসায়িক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পরিচালনা পর্ষদে কোনো ভূমিকা রাখবে
না। তাদের বিনিয়োগ থাকবে ‘নন-ভোটিং ইক্যুইটি’ হিসেবে। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা
ঝুঁকির আওতাভুক্ত হবে না বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি আগামী ২৩
এপ্রিল এই লেনদেনের বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ভোট গ্রহণের জন্য একটি বিশেষ সভা আহ্বান
করেছে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ নাগাদ এই ঐতিহাসিক অধিগ্রহণ
প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

