র্যাপার বাদশা
বিতর্কিত গান ‘তাতীরি’ -এর লিরিক্স ও উপস্থাপনার মাধ্যমে নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে জাতীয় নারী কমিশনের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ভারতীয় জনপ্রিয় র্যাপার বাদশা। মঙ্গলবার কমিশনের সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত হন এবং ভবিষ্যতে নারী ক্ষমতায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
গত মাসে বাদশার ‘তাতীরি’ গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই
এর ভাষা ও ভিডিও চিত্র নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। গানটি নারীর সম্মান ও শালীনতা হানি
করেছে—এমন অভিযোগে জাতীয় মহিলা কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা গ্রহণ করে। সেই
মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার কমিশনের প্রধান বিজয়া রাহাতকারের উপস্থিতিতে একটি
শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে বাদশার পাশাপাশি গানের পরিচালক জবান সান্ধু, মহাবীর সিং
এবং প্রযোজক হিতেনও উপস্থিত ছিলেন। শুনানি চলাকালীন বাদশা এবং তার দলের সদস্যরা লিখিতভাবে
নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বাদশা কমিশনকে জানান, তিনি সমাজ ও নারীর প্রতি অবমাননাকর
কোনো কাজ ভবিষ্যতে আর করবেন না। নিজের কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে তিনি অর্থনৈতিকভাবে
পিছিয়ে পড়া পরিবারের ৫০ জন মেয়ের শিক্ষার সম্পূর্ণ খরচ বহন করার (স্পন্সরশিপ) ঘোষণা
দিয়েছেন।
বাদশা বলেন, “আমি নারী ও সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করব।
আগামী চার মাসের মধ্যে নারী ক্ষমতায়নের ওপর একটি ইতিবাচক গান উপহার দেব এবং ভবিষ্যতে
এ ধরনের কোনো কাজে লিপ্ত হব না।”
নারী কমিশনের চেয়ারপারসন বিজয়া রাহাতকার
গানের কথা ও উপস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, শিল্পী
ও নির্মাতাদের অবশ্যই সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা ও সামাজিক শালীনতার প্রতি
যত্নশীল হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে কমিশনকে
নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

