তরুণ ঘোষ
দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিল্প নির্দেশক ও চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ আর নেই। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তাঁর প্রয়াণে দেশের শিল্পকলা ও চলচ্চিত্র মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই
শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু
হলে তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক
তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে লালবাগের পোস্তা শ্মশানঘাটে
তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এর আগে সকালে তাঁর মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে
নেওয়া হলে সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের
শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
১৯৫৩ সালের নভেম্বরে রাজবাড়ী জেলায় জন্মগ্রহণ
করেন তরুণ ঘোষ। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক শেষ
করে ১৯৮৬ সালে ভারতের বরোদার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি
অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক। ১৯৭৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
চারুকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি বাংলাদেশ
জাতীয় জাদুঘরে যোগ দেন এবং দীর্ঘ ২৩ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালে ‘কীপার’ পদ থেকে অবসর
গ্রহণ করেন।
চিত্রকলার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের শিল্প
নির্দেশনায় তরুণ ঘোষ ছিলেন অনন্য। আবু সাইয়ীদ পরিচালিত ‘কিত্তনখোলা’ চলচ্চিত্রের
জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া
আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’, ‘নরসুন্দর’ এবং এন রাশেদ
চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ
চলচ্চিত্রে তিনি শিল্প নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সর্বশেষ কাজ ছিল এন রাশেদ
চৌধুরীর ‘সখী রঙ্গমালা’, যা বর্তমানে
মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
চিত্রশিল্পী হিসেবেও তরুণ ঘোষ ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য।
বাংলার লোকঐতিহ্য, মিথ ও ইতিহাসকে তিনি আধুনিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন। তাঁর বিখ্যাত
‘বেহুলা’ সিরিজটি এশিয়ান
আর্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী মিথুন বিশ্বাস ও এক সন্তান
রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের চারুকলা ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো,
তা অপূরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

