সুশান্ত ও জিয়ার মৃত্যুর পেছনে বলিউড মাফিয়া: তনুশ্রী দত্ত
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৭
তনুশ্রী দত্ত
বলিউডের কালো অধ্যায় ও তথাকথিত ‘মাফিয়া রাজ’ নিয়ে আবারও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত এবং জিয়া খানের অকাল মৃত্যুর পেছনে প্রভাবশালী ‘বলিউড মাফিয়া’দের হাত রয়েছে। তনুশ্রীর মতে, এই প্রতিভাবান তারকাদের পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘মেরি সহেলি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তনুশ্রী
বলেন, বলিউডে এক অদৃশ্য মাফিয়া চক্র কাজ করে যা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পায়
না। তিনি বলেন, “বলিউড মাফিয়া অবশ্যই আছে। আর সে কারণেই আজ সুশান্ত সিং রাজপুত এবং জিয়া
খান আমাদের মাঝে নেই। যদি এই মাফিয়া চক্র না থাকত, তবে এই মেধাবী এবং উদীয়মান তারকারা
আজও বেঁচে থাকতেন। বলা হয়ে থাকে তারা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না
তারা আত্মহত্যা করেছেন। আর যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই তারা জীবন শেষ করে দিয়েছেন—তবে
প্রশ্ন হলো, কেন একজন মানুষ এই চরম পর্যায়ে পৌঁছায়?”
একজন সফল এবং আত্মবিশ্বাসী মানুষ কেন আত্মহত্যার
পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তনুশ্রী। তার মতে, ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই সম্পর্কে
অভিনয়শিল্পীরা আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। তনুশ্রী বলেন, কোনো সুস্থ মানুষ
হুট করে ঘুম থেকে উঠে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয় না। বিশেষ করে যারা সাফল্য দেখেছেন
এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। ক্যারিয়ারের ব্যর্থতা এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট
নয়। যদি এমনটি ঘটে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে সেই ব্যক্তিকে সেই দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য
একটি পরিকল্পিত এবং কেন্দ্রীভূত প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
বলিউড মাফিয়ার কার্যপদ্ধতি নিয়ে তনুশ্রী
দাবি করেন, ইন্ডাস্ট্রির গুটিকয়েক প্রভাবশালী মানুষের বিশাল অহংকার রয়েছে। যারা স্বাধীনভাবে
এবং সততার সাথে কাজ করতে চান, তাদেরকেই এই চক্র টার্গেট করে। আপনি যদি তাদের কথা মতো
না চলেন, তবে আপনি তাদের শত্রু হয়ে যাবেন। তারা আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে।
আপনি যতই মেধাবী হোন না কেন, যদি আপনি তাদের কথা না শোনেন, তবে আপনাকে ‘আউটসাইডার’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করে দেওয়া
হবে। এই চক্রকে তিনি ‘অশুভ শক্তি’র সাথে তুলনা করেছেন।
যদিও তনুশ্রী সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি,
তবে তিনি বৈশ্বিক বিভিন্ন কেলেঙ্কারি এবং সিনেমার গল্পের সাথে বাস্তবতার মিল থাকার
কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সরাসরি প্রমাণ ছাড়া আমি অভিযোগ করছি না। কিন্তু যখন
সিনেমায় এ ধরনের বাস্তবতা দেখানো হয় এবং বিশ্বজুড়ে এপস্টাইনের মতো মামলাগুলো সামনে
আসে, তখন বুঝতে হবে বাস্তবতার সাথে এর গভীর সংযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

