সত্তর ও আশির দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম ববিতা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সিনেমার নাম উজ্জ্বল করা এই অভিনেত্রী জীবনের প্রতিটি ধাপে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালটি যেন তার সেই সাফল্যের মুকুটে একের পর এক নতুন পালক যোগ করে চলেছে। বছরের শুরুতেই একুশে পদক এবং আন্তর্জাতিক ‘হুস হু’ পুরস্কার পাওয়ার পর এবার তিনি পেতে যাচ্ছেন ‘মা পদক ২০২৬’।
আগামী ১০ মে বিশ্ব মা দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে
সামনে রেখে ‘আলী-রূপা ফাউন্ডেশন’-এর
পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মাদিহা মার্সিহা অ্যাডভারটাইজিং-এর আয়োজনে ববিতাকে এই সম্মাননা প্রদান
করা হবে। রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর হাতে এই পদক
তুলে দেওয়া হবে।
ববিতা এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস
প্রকাশ করে বলেন, “চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে
একুশে পদক পর্যন্ত অনেক বড় বড় সম্মাননা পেয়েছি। কিন্তু এবারের ‘মা পদক’ আমার কাছে একেবারেই আলাদা। রূপালি
পর্দায় মায়ের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় এবং ব্যক্তিজীবনে আমার একমাত্র সন্তান অনিককে সুশিক্ষায়
বড় করার স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক পাচ্ছি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে একজন ‘সফল মা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াটা আমার
কাছে সবচেয়ে বেশি অর্থবহ এবং সম্মানের।”
মাদিহা মার্সিহা অ্যাডভারটাইজিং-এর এই
আয়োজনে এবার সংস্কৃতি অঙ্গন থেকে ববিতাসহ মোট ৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করা
হবে। এছাড়া সাংবাদিকতায় ২ জন এবং ব্যাংকিং, আইন, বিচার বিভাগ, বিমানবাহিনী ও চিকিৎসা
পেশায় নিয়োজিত ১২ জন সফল সন্তানের গর্বিত মায়েদের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হবে।
আয়োজক অভি মঈনুদ্দীন বলেন, “ববিতা আপা বাংলাদেশের সিনেমার জীবন্ত কিংবদন্তি।
পর্দার মা হিসেবে তিনি যেমন দর্শকদের কাঁদিয়েছেন, তেমনি বাস্তবেও তিনি একজন সফল মা।
দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তাকে কাছ থেকে দেখে আমি অনুভব করেছি, অনিককে ঘিরে তার যে সংগ্রাম
ও মমত্ববোধ, তা সকল মায়ের জন্য অনুপ্রেরণা। তাই তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা আমাদের
জন্য গর্বের বিষয়।”
ববিতার জন্য ২০২৬ সালটি শুরু হয়েছে এক
অবিস্মরণীয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। চলতি বছরই তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার
‘একুশে পদক’-এ
ভূষিত হয়েছেন। এরপর তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ‘হুস হু’ অ্যাওয়ার্ড। প্রাপ্তির এই সিলসিলা
এখানেই শেষ নয়। আগামী ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের লসঅ্যাঞ্জেলেসে ‘আনন্দ মেলা’র পক্ষ থেকে তাকে প্রদান করা
হবে আজীবন সম্মাননা। এর মাঝেই ১০ মে ‘মা পদক’ তাঁর সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ
করল। ‘মা পদক’-এর আগের
আসরগুলোতেও দেশের বরেণ্য অভিনেত্রীদের সম্মানিত করা হয়েছিল।
এর আগে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম, দিলারা
জামান, আনোয়ারা ও চিত্রলেখা গুহ এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। গ্রীনভিউ গলফ রিসোর্ট
নিবেদিত এবারের আয়োজনটি অতীতের চেয়েও বর্ণিল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

