বিরতি কাটিয়ে স্টার ওয়ার্সের জাঁকজমকপূর্ণ প্রত্যাবর্তন
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ২১:০৫
দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি কাটিয়ে ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অবশেষে রূপালী পর্দায় জাঁকজমকপূর্ণ প্রত্যাবর্তন করল বিশ্ববিখ্যাত ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্টার ওয়ার্স’ । পরিচালক জন ফাভরো-র দূরদর্শী নির্দেশনায় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিজনির জনপ্রিয় এই জুটির ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় আসার যাত্রাটি বেশ সফল। শ্বাসরুদ্ধকর আকাশযুদ্ধ, দানবীয় ভিনগ্রহী প্রাণী এবং মন ছুঁয়ে যাওয়া কিছু মুহূর্তের সমন্বয়ে তৈরি এই সিনেমাটি স্টার ওয়ার্স ভক্তদের জন্য ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। তবে সিনেমার শেষভাগের একটি বিশেষ টুইস্ট পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজির চেনা সমীকরণকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।
সিনেমার গল্পে দেখা যায়, বাউন্টি হান্টার
ডিন জারিন এবং তার ছোট অদ্ভুত সঙ্গী গ্রোগু-কে নিউ রিপাবলিকের কর্নেল ওয়ার্ড একটি বিশেষ
মিশন দেন। কুখ্যাত গ্যাংস্টার জাব্বা দ্য হাটের নিখোঁজ ছেলে রোটা-কে উদ্ধার করে তার
বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল তাদের মূল কাজ। কিন্তু মিশন চলাকালীন লোভী ‘হাট টুইনস’ ডিন জারিনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা
করে এবং তাকে একটি বিষাক্ত ড্রাগন স্নেক পিটে (সাপের গর্তে) ফেলে বিষপ্রয়োগ করে। এখানেই
সিনেমার মূল এবং সবচেয়ে বড় টুইস্টটি আসে, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চিরাচরিত ‘রক্ষাকর্তা ও শিশু’র ডাইনামিক বা রসায়নকে
ভেঙে চুরমার করে দেয়। যে ডিন জারিন সবসময় গ্রোগু-কে আগলে রাখতেন, বিষের প্রভাবে তিনি
নিজেই এখন সম্পূর্ণ অসহায়। ফলে এবার গ্রোগু-কে রক্ষাকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়।
আনজেলান গ্রহের কিছু স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ডিনের জন্য প্রতিষেধক বা অ্যান্টিডোট
জোগাড়ে নেমে পড়ে গ্রোগু। সিনেমার প্রায় ২০ মিনিটের একটি সম্পূর্ণ নীরব ও ডায়ালগহীন
দৃশ্যে গ্রোগু তার ভেতরের সুপ্ত যোদ্ধা সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলে এবং নিজের শক্তিতে এক
অনন্য যোদ্ধায় পরিণত হয়। এটি সিনেমার মূল বার্তাকেই ফুটিয়ে তোলে— "আজ বড়রা ছোটদের
রক্ষা করছে, কিন্তু খুব শীঘ্রই ছোটরা বড়দের রক্ষা করার দায়িত্ব তুলে নেবে।"
সাধারণ স্টার ওয়ার্স ভক্তদের ধারণা ছিল,
এই সিনেমার শেষে হয়তো ‘গ্র্যান্ড অ্যাডমিরাল থ্রন’-এর আগমনের কোনো ইঙ্গিত বা বড় কোনো চমক রাখা হবে। কিন্তু পরিচালক জন ফাভরো সেদিকে না হেঁটে
একেবারেই ভিন্ন ও স্বকীয় এক সমাপ্তি টেনেছেন। হাটের ঘাঁটিতে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের
পর (যেখানে হলিউড তারকা সিগোর্নি উইভারকে একটি স্টারফাইটার বিমান চালাতে দেখা যায়),
জাব্বার ছেলে রোটা তার বংশগত অপরাধের দুনিয়া ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিউ রিপাবলিকের
সাথে যোগ দেয়।
সিনেমার একদম শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, ডিন
জারিন এবং গ্রোগু করুসান্ট গ্রহ থেকে স্পেসশিপে করে মহাকাশের উদ্দেশ্যে উড়াল দিচ্ছে।
তবে এবার স্পেসশিপের পাইলটের আসনে কোনো বড় কেউ নেই, স্বয়ং গ্রোগু নিজেই সেই মহাকাশযানটি
চালাচ্ছে! কোনো জটিল খটকা বা পরবর্তী খণ্ডের জন্য সস্তা কোনো ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’ না রেখে ছবির এই সরল ও
সুন্দর সমাপ্তি এটাই প্রমাণ করে যে, স্টার ওয়ার্স সিনেমাকে প্রথাগত ফর্মুলার বাইরে
গিয়েও দারুণভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

