Logo

বিনোদন

২০২৬ এর সেরা পপ ও অল্টারনেটিভ মিউজিক

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ২১:২৬

২০২৬ এর সেরা পপ ও অল্টারনেটিভ মিউজিক

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাস আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনের জন্য ছিল এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সময়। হ্যারি স্টাইলস, বিটিএস কিংবা ড্রেকের মতো মূলধারার পপ জগতের বড় বড় তারকারা যখন চলতি বছর শ্রোতাদের আশানুরূপ কোনো অ্যালবাম উপহার দিতে কিছুটা ব্যর্থ হয়েছেন, তখন বিশ্ব সংগীতের হাল ধরেছে অল্টারনেটিভ, হাইপারপপ, ইন্ডি এবং ফিউশন ঘরানার গান।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান’ চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের সেরা অ্যালবামগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে থান্ডারক্যাটের অল-স্টার ফাঙ্ক থেকে শুরু করে কেসি মাসগ্রাভসের নির্জনতার গান—পপ ও অল্টারনেটিভ মিউজিকের এক বৈচিত্র্যময় রূপ ফুটে উঠেছে। এবারের তালিকায় স্থান পাওয়া অ্যালবামগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থান দখল করে আছে হাইপারপপ ঘরানার প্রতিভাবান শিল্পী এপ্রিল গ্রে’র (আন্ডারস্কোরস) নতুন অ্যালবাম ইউ’ ।

আগের জটিল ট্র্যাকগুলোর তুলনায় এই অ্যালবামে তিনি গান লেখার ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিপক্কতা দেখিয়েছেন। এসিড হাউস, অটো-টিউনড ভোকাল, নব্বইয়ের দশকের আর-অ্যান্ড-বি এবং ডাবস্টেপের এক দারুণ মিশ্রণ দেখা গেছে এই অ্যালবামে, যা চলতি বছর মূলধারার পপকে টেক্কা দেওয়ার মতো একটি মাস্টারপিস।

অন্যদিকে, পাঁচ বছর পর নিজের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ডিস্ট্র্যাক্টেড’ নিয়ে হাজির হয়েছেন বেইজ গিটারিস্ট ও গায়ক থান্ডারক্যাট। টেম ইম্পালা, লিল ইয়াটি এবং প্রয়াত ম্যাক মিলারের মতো হেভিওয়েট অতিথিদের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ ৪৫ মিনিটের এই অ্যালবামটিতে হাউজ মিউজিক, সফট রক, ক্লাসিক জ্যাজ এবং পি-ফাঙ্কের এক মাথা ঘোরানো মেলবন্ধন ঘটেছে। ঠিক একইভাবে কান্ট্রি মিউজিককে পপ ধারার সাথে মিশিয়ে নিজের সপ্তম অ্যালবাম মিডল অব নোয়ার’ প্রকাশ করেছেন কেসি মাসগ্রাভস।

টেক্সাস ও মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতের ছোঁয়া এবং পেডাল স্টিলের করুণ সুরে ভরা এই অ্যালবামটি একাকীত্ব এবং আত্মদর্শনের এক অসাধারণ দলিল। দীর্ঘ ১১ বছর পর পপ ও নিও-সোল দুনিয়ায় রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন জিল স্কট তাঁর টু হুম দিস মে কনসার্ন’  অ্যালবামটি দিয়ে। তাঁর চেনা কণ্ঠের জাদুতে নিও-সোলের পাশাপাশি ব্লুজ এবং হিপ-হপ ঘরানার দারুণ সব গান শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। আশির ও নব্বইয়ের দশকের অল্টারনেটিভ রকের কিংবদন্তি এবং সনিক ইয়ুথ ব্যান্ডের সাবেক বেইজিস্ট কিম গর্ডন তাঁর প্লে মি’ অ্যালবামের মাধ্যমে আধুনিক ডিজিটাল ট্র্যাপ, ডাব এবং ইলেকট্রোনিকার সাহায্যে টেক-ব্রো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদী আওয়াজ তুলেছেন। সুইডিশ ইলেকট্রনিক মিউজিক ঘরানার পরিচিত মুখ ওলফ ড্রেয়ার তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম লাউড ব্লুম’ দিয়ে ক্লাব মিউজিক প্রেমীদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, যেখানে সুদান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন আঞ্চলিক ছন্দ ও কণ্ঠকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

চলতি বছর প্রগতিশীল বা প্রগ-রক ধারায় চমক দেখিয়েছে কুইবেক অঞ্চলের দুই সদস্যের ব্যান্ড আনজাইন দ্য পোয়াত্রিন’ তাদের ভলিউম টু’ অ্যালবামের মাধ্যমে। ২০২৪ সালের প্রথম খণ্ডের চেয়ে এবারের অ্যালবামে ড্রামস ও ডুয়াল-নেক গিটারের মেলবন্ধন ছিল অনেক বেশি জটিল ও আকর্ষণীয়। ড্রায় ক্লিনিং ব্যান্ডের তৃতীয় অ্যালবাম সিক্রেট লাভ’ মূলত আধুনিক যুগের ইনফ্লুয়েন্সার ও সাইবার সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকগুলোকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছে ফোর্থ পোস্ট-পাঙ্ক গিটার ও ইলেকট্রনিক সাউন্ডের আবহে।

এছাড়া আইরিশ ব্যান্ড চক’ তাদের ক্রিস্টালপাঙ্ক’ অ্যালবামে টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির টেকনো ও গথ-পপ ঘরানাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যার 'বেল ফিয়ার্সতে' ট্র্যাকটি ইতিমধ্যে উৎসবের মৌসুমগুলোতে তুমুল সাড়া ফেলেছে। এর পাশাপাশি বেডরুম-ইন্ডি ঘরানায় অটো বেনসনের পিনাট’ অ্যালবামের নরম মেঠো সুর এবং ডেনিশ প্রযোজক পিকচারের টেকনো ঘরানার অ্যালবাম ইইইইইইইই’ শ্রোতাদের মাঝে ভিন্ন ঘরানার আবহ তৈরি করেছে। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের এই বৈচিত্র্যময় অ্যালবামগুলো প্রমাণ করে যে, শ্রোতারা এখন কেবল প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার পপ মিউজিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা নতুন ধরনের নিরীক্ষাধর্মী ও আধ্যাত্মিক সুরের সন্ধানে ব্যাকুল, যা বিশ্ব সংগীতের ভবিষ্যৎকে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন