বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোতে ‘ভিউ’ আর ‘ভাইরাল’ হওয়ার এক অন্ধ প্রতিযোগিতা চলছে। সস্তা জনপ্রিয়তার এই জোয়ারে যখন অনেক শিল্পী গা ভাসাচ্ছেন, তখন একেবারেই ব্যতিক্রমী এক সুর নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হয়েছেন দেশের বরেণ্য ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী।
সুস্থ ধারার শুদ্ধ সংগীতচর্চাকে সমুন্নত
রাখতে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে তাঁর নতুন একক গান ‘খেয়ালী সুর’। গানটি শিল্পীর নিজস্ব অফিশিয়াল
ইউটিউব চ্যানেল ‘ফাহমিদা নবী’-তে অবমুক্ত করা হয়েছে। মেলোডি ঘরানার এই নতুন গানটির কথা
লিখেছেন গীতিকার আমিরুল ইসলাম অরুণ এবং এর চমৎকার সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন দেশের
প্রখ্যাত সুরকার ফোয়াদ নাসের বাবু।
নতুন গান ও বর্তমান সংগীতাঙ্গনের সার্বিক
পরিস্থিতি নিয়ে ফাহমিদা নবী তাঁর স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন। ভিউ ও ভাইরালের সংস্কৃতি
নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সংগীতাঙ্গনে ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা
যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। সবার মনোযোগ এখন ভিউ-বাণিজ্যে।
কী করে রাতারাতি ভাইরাল হওয়া যায়, সবার
মাঝে এখন সেই চেষ্টা স্পষ্ট। আমি মনে করি, এই বিষয় বা জনপ্রিয়তাটা সাময়িক। তবে এই সস্তা
প্রবণতার কারণে আমাদের মূল সংস্কৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাইরাল হওয়ার চেয়ে
বরাবরই সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সংগীতচর্চার চেষ্টা করি। এই গানটাও সেই ধারাবাহিকতায় গাওয়া।
ভাইরালের দুনিয়ায় এই গানটি কত মিলিয়ন ভিউ পাবে বা কতটা সাড়া ফেলবে তা আমি জানি না;
তবে গানের প্রকৃত সমঝদার শ্রোতাদের হৃদয়ে একটু জায়গা পেলেই আমার এই চেষ্টা সার্থক হবে।
ফাহমিদা নবী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ভালো
গানের শ্রোতা এ দেশে কখনোই ফুরিয়ে যায়নি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভিড়েও তারা গান বেছে
শোনেন।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, যাঁরা গান
ভালোবাসেন, যাঁরা গানের প্রকৃত শ্রোতা, তাঁরা ঠিকই খুঁজে খুঁজে ভালো গান শোনেন। তাঁরাই
আমার গানের মূল শক্তি এবং প্রকৃত শ্রোতা। আশা করছি ‘খেয়ালী সুর’ তাঁদের মন ছুঁয়ে যাবে। বিগত
বেশ কয়েক বছর ধরে কেবল কণ্ঠ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই ফাহমিদা নবী। নিয়মিত গান গাওয়ার
পাশাপাশি তিনি নিজে চমৎকার সব গানের সুরও করছেন। ইতিমধ্যে তাঁর নিজস্ব সুরে তৈরি বেশ
কয়েকটি গান শ্রোতাপ্রিয়তাও পেয়েছে। তবে নতুন এই ‘খেয়ালী সুর’ গানটি তাঁর নিজের সুরে করা
নয়।
এ প্রসঙ্গে ফাহমিদা নবী নিজের উদারতা প্রকাশ
করে বলেন, নিজের সুরে গান গাইতে পারলে একধরনের অন্যরকম আত্মতৃপ্তি কাজ করে, এটা সত্যি।
আমার গাওয়া অনেক গানের সুর আমার নিজের করা। তবে আমাদের দেশে অনেক মেধাবী ও কিংবদন্তি
সুরকার আছেন, যাঁদের সুরে কণ্ঠ দিতে পারা যেকোনো শিল্পীর জন্যই সৌভাগ্যের বিষয়। ফোয়াদ
নাসের বাবু তেমনই একজন গুণী ও মেধাবী মানুষ। আমিরুল ইসলাম অরুণের লেখা চমৎকার কথাগুলোকে
তিনি যেভাবে সুরে বেঁধেছেন, তা এক কথায় দারুণ। গানটি প্রথমবার শোনার পর থেকেই আমার
ভীষণ মনে ধরেছিল এবং আমি আনন্দ নিয়ে কাজটি করেছি।
শুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন সংগীতের খরায় ফাহমিদা
নবীর এই ‘খেয়ালী সুর’
বাংলা গানের চিরায়ত মেলোডি ঘরানার শ্রোতাদের পিপাসা মেটাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

