অনলাইন শপের শাড়ি আত্মসাৎ, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনে মুক্তির পর আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের
মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন এই অভিনেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সচিব স্বামীর ক্ষমতার
অপব্যবহার করে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে পৌছান তানজিন তিশা। সেখানে
পৌছানোর পর কিছুক্ষণ নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করেন তিনি। এরপর বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার এজলাসে শুনানি শুরু হলে তিনি আদালতে প্রবেশ করেন। এ
সময় শীর্ষ এই অভিনেত্রীর উপস্থিতি ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী
ও উৎসুক ভক্তের ভিড় জমে যায়। শুনানি শেষে আইনজীবীর উপস্থিতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা
করেন তিশা। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে মামলাটিকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
এবং নেগেটিভ মার্কেটিংয়ের চেষ্টা’ বলে দাবি করেন তিনি।
মামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন
পেজের প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি। এ নিয়ে তানজিন তিশা বলেন, আমি শাড়িটি
কিনে নিইনি; বরং পেজটির পক্ষ থেকেই আমাকে শাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
উপহারের বিনিময়ে পারিশ্রমিক ছাড়াই সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে শাড়িটি পরে বিনামূল্যে প্রচারণার কথা হয়েছিল, যা আমি ইতোমধ্যে সম্পন্ন
করেছি। শাড়িটি পরে আমার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবি দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পেজকে
নিয়ম অনুযায়ী মেনশন ও স্টোরিতে যুক্ত করা হয়েছিল।
১৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ
করে ব্যথিত কণ্ঠে তিশা বলেন, আমার দীর্ঘ সততার ক্যারিয়ারে ২৭-২৮ হাজার টাকার শাড়ি আত্মসাতের
অভিযোগ ওঠানো অত্যন্ত দুঃখজনক। যিনি আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন, তিনিও একজন নারী।
তার স্বামী একজন সচিব হওয়ায় সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া
হয়েছে এবং আইনের তোয়াক্কা না করে সামাজিকভাবে হ্যারাস করা হয়েছে। তবে সত্যের কাছে ক্ষমতার
বড়াই টেকে না।
তানজিন তিশার আইনজীবী মো. নিহার হোসেন
ফারুক আদালতে বলেন, আমার মক্কেল শুরুতে শাড়িটি কিনতে চেয়ে দাম জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু
ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকেই তাকে এটি উপহার দিয়ে প্রচারণার অনুরোধ করা হয়। তিশা তার কথা
রেখে প্রচারণাও চালিয়েছেন। প্রচারণার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না, অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করা হয়েছে। সম্মানহানির জন্য আমরা বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি
পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছি।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট
সলিমুল্লাহ সরকার বলেন, আসামি নারী হওয়ায় এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা বা আপসের শর্তে
আদালত পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছেন। মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম
জানান, শাড়ির মূল্য, উপহারের চুক্তি ও প্রচারণার বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য
দিয়েই নিষ্পত্তি হবে এবং তারা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, অনলাইন ফ্যাশন
পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’
থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি সংগ্রহ করার পর তানজিন তিশা মূল্য
পরিশোধ বা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সঠিক প্রচারণা চালাননি এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে
দেন—এমন অভিযোগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) তদন্তে অভিযোগের
প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানালে চলতি বছরের ১২ জুলাই একই আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে
সমন জারি করেন। সমনের নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার সকালে সশরীরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে
জামিন আবেদন করেন এবং আইনি লড়াই শেষে জামিন লাভ করেন এই অভিনেত্রী।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

