ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খবরটি মিথ্যা বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তার সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর তরফ থেকে বলা হয়েছে, তিনি ভালো আছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) লন্ডন সময় সন্ধ্যায় তার সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করার কথা রয়েছে।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, মানুষ অতি উৎসাহী হয়ে এ ধরনের খবর ছড়ায়। লন্ডনে তার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে, সেখানে তার চিকিৎসা ভালো চলছে, তিনি ভালো আছেন। একজন জীবিত মানুষকে নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে আমাদের সংগঠন।
তথ্য যাচাই ছাড়াই মৃত্যুর খবর ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় মন্তব্য করে লিটন বলেন, এটি শুধু চরম দায়িত্বহীনতা নয়, বরং একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং তার প্রতি ভালোবাসা থাকা লাখো মানুষের অনুভূতির প্রতি নির্মাল আঘাত।
তিনি বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার সঙ্গে দেশের অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করে।
মৃত্যুর ভুয়া খবর ছাড়ানো নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়েছে নিসচার এক বিজ্ঞপ্তিতে।
মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে লন্ডনে মেয়ের বাসায় থাকছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর দুই ধাপে চলেছে কেমোথেরাপি।
১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেশে এসেছিলেন তিনি। এক সপ্তাহের বেশি সময় দেশের মাটিতে কাটিয়ে ১২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ফের যুক্তরাজ্যে যান। এখন সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যেই তার মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে কয়েকশ সিনেমায় কাজ করেছেন এই অভিনেতা, যার শুরুটা হয় ১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্তের বসুন্ধরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর একের পর এক দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তিনি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছান ১৯৮৯ সালে বেদের মেয়ে জোসনা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

