Logo

প্রবাস

বাঙালি সংস্কৃতি— নতুন প্রজন্মের কাছে

Icon

সাইফুল ইসলাম রিপন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৫, ১৪:৩৪

অ
বাঙালি সংস্কৃতি— নতুন প্রজন্মের কাছে

গত বছর ১৮ই মে মুক্তবিহঙ্গের আয়োজনে ক্যালগেরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে Life in Motion নামে একটি বিচিত্রানুষ্ঠান। জাহেদ আল হক নামক এক তরুণের উৎসাহে। মানুষের বয়স একটা আবর্তে ঘুরতে থাকে। আমার এই ৬৬ ছুঁই ছুঁই বয়সে হঠাৎ করেই বেশ কিছু আমার সন্তানের বয়সীদের সাথে পরিচিত হয়ে পড়েছি। বিশেষ করে করোনা মহামারির পরে। তাদের সবাইকে ধীরে ধীরে পরিচয় করিয়ে দেবো। আজকে জাহেদের পালা। 

এই প্রজন্মটার প্রতি আমার একটা বাড়তি আকর্ষণ আছে। এর মুল কারণ দুইটা। প্রথমত এদের ভাবনা বুঝতে চাই। আর দ্বিতীয়ত, ওদের সময়ে জন্ম নিলে, আমি কোন জীবনটা নিতাম, সেটা একটু খুঁজে দেখা। আমি আমার যে জীবনটা কাটিয়ে এসেছি, সেটাতে প্রাপ্তি অনেক। তারপরেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও যোগাযোগের অভাবের কারণে অনেক কিছুই, যা আমাদের জীবনে ঘটতে পারতো, কিন্তু ঘটে নাই, সেগুলি ওদের ভেতরে দেখে ভীষণ আনন্দিত হই। এটা একটা অন্যরকমের অনুভূতি। 

জাহেদের নামের সাথে আমি পরিচিত হই ২০১৫ সালের দিকে হবে। ক্যালগেরিতে দেওয়ান খোলস নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। ওর অভিনয় করবার কথা ছিল। শেষে সেটা হয়ে ওঠে নাই। এরপরে আমি দীর্ঘ সময় ক্যালগেরির বাইরে থাকি। এর ভিতরে ও বেশ কয়েকটা নাটক মঞ্চস্থ করে। যেটা আমি দেখতে পারি নাই। জাহেদের  সাথে ফেসবুকে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ওর নানা কার্যকলাপের সাথে পরিচিত হই। ওর সম্বন্ধে একটা ধারণা জন্মে আমার মাথার ভিতরে। বুঝতে পারি, ওর জীবনযাপন ঠিক বাংলাদেশি ধাঁচের না। বেশ কিছুটা বাউলত্ব আছে ওর। প্রকৃতিকে আবিষ্কার করার একটা নেশা আছে। করোনা চলাকালীন সময়ে, ২০২১ এ আমার বন্ধু, বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব সামছুল আলম বকুল Diaspora Theater এর একটা ভার্চুয়াল পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করে। যেটার প্রস্তুতির সম্পূর্ণটাই আমাকে করতে হয়।সেই সূত্রে আমি  জাহেদের পরিচালিত তিনটা নাটকের পোস্টার হাতে পাই।

নাটকগুলি মলিয়ারের জর্জ দাঁদাঁ, ইউজিন আইনেস্কোর দি লিডার ও ফ্র্যান্জ কাফকার দি মেটামরফোসিস। বেশ চমকে যাই ওর নাটক নির্বাচন দেখে। ঢাকা শহরের অনেক বিশিষ্ট নাট্যজনদের সাথে আমার অনেক সময় কেটেছে। অনুমান করতে পারি, বাংলাদেশের নাটকের অবস্থানকে। সুদূর ক্যালগেরি এসে আমার অর্ধেকেরও কম বয়সী একটা ছেলে যখন এই সব নাটক নিয়ে বাংলাভাষী দর্শকদের জন‍্য এগিয়ে আসে, তখন তার সাহস দেখে অবাক তো হই ই, সাথে সাথে এক ধরনের স্নেহ মিশ্রিত শ্রদ্ধাও জন্ম নেয় ওর প্রতি। 

আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারি, জাহেদের সাথে আমার প্রথম দেখা, করোনা শেষে, আমার আরেক স্নেহের অভিজিৎ সাহার মেয়ের জন্মদিনে। ক‍্যালগেরির উৎসব নামক খাবার দোকানে। আমি যখন পৌঁছাই তখন জাহেদ গভীর মনোযোগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে জীবনানন্দ দাশ আওড়াচ্ছে। দীর্ঘ কবিতাগুলির প্রতিটা শব্দের সাথে ওর প্রাণের ছোঁয়া অনুভব করা যাচ্ছিলো। এই সব নিমন্ত্রণে অতিথিরা কথা বলতে থাকে, সেটাই স্বাভাবিক। জাহেদের সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। আমার কাছে সেদিন ওর অন্তরের বাউলতা টা বের হয়ে আসে। আমি নিজে এই সব ধরনের কার্যকলাপের সাথে অল্প কিছুটা সম্পৃক্ত। বলতে দ্বিধা নেই, আমি যেগুলি করি, সেগুলি পোশাকি, লোক দেখানো। কিংবা খুব বেশি হলে শখ। কিন্তু জাহেদের অনুভূতিতে এগুলি একটা নেশা। যেটা তাকে পূর্ণ একজন মানুষে পরিণত করেছে। ওর কার্যক্রম নিয়ে লেখার চেষ্টা আমি করছি না। তবুও জাহেদের পরিচালিত শেষ অনুষ্ঠান The life in motion নিয়ে লেখার প্রয়োজন আছে বলে, আমার এই লেখাটা লেখার চেষ্টা। 

মুক্তবিহঙ্গ এ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় সাত/আট মাস আগে। আমি তখনই আমার ক্যালেন্ডারে আটকে রাখি তারিখটা। এটা আমার জন্য দেখতেই হবে, এমন একটা বিষয় ছিল। আর সবার মতো আমিও ভেবে নেই সে কোন নূতন নাটক নিয়ে আসবে। মাঝখানে আমার সঙ্গে একবার ফোনে কথা হয়। জানতে পারি, সে নাটক না, অন্য কিছু একটা ভাবছে। আমাকে বলতে চেয়েছিলো, একবারে অনুষ্ঠান দেখবো বলে, আমি শুনতে চাই নি। এ অনুষ্ঠানটা কে ওরা নাম দিয়েছে A Theatrical Production। যে নামেই ডাকুক না কেনো, আমার কাছে এটা একটা বিচিত্রা অনুষ্ঠান। অনেক কিছুর সমন্বয় ঘটিয়েছে। মিলনায়তনে ঢুকে ব্যবস্থাপনা দেখে ভালো লাগে। কে কোথায় বসবে, নির্ধারিত করে রেখেছে। মঞ্চের পেছনে Revolution লেখা একটা অবাস্তব চিত্র কর্ম, যেখানে লাল কাপড় দিয়ে, দুই পাশে জড়ানো। একটু ঘাবড়ে যাই। আমার মতো পোড় খাওয়া বিপ্লবী, যারা বাংলাদেশে এক সময় সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখতো,তাদের কাছে এই সব শব্দ, অনেকটা ঘরপোড়া গরুর সিঁদুরে মেঘ দেখবার মতো অবস্থা হয়। একটু পরে নজরে আসে, Revolution এর R এর পরে কাঁচি চালানো হয়েছে। অর্থাৎ, এটা Revolution না Evolution সেটার মাঝখানে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি করা হয়েছে। বেশ আগ্রহ পেয়ে যাই। আবার ডান পাশে দেখি “দিকশূন্যপুর” লিখে একটা তীর চিহ্ন দেয়া। আমার অনেক আগের পড়া নীললহিতের (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়) “চলো দিকশূন্যপুর” এর কথা মনে করিয়ে দেয়। যে কল্পিত ভ্রমণ নীললোহিত করেছিলেন মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝির, ময়নাদ্বীপের মতো। সত্যিই আগ্রহী হয়ে পড়ি অনুষ্ঠানটার প্রতি। 

অনুষ্ঠানটি শুরু করেছে শুভাশিষের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, “বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা” দিয়ে, সাথে সন্ধ্যার নাচ। শুভাশিষ আমার একজন মনের মতো শিল্পী। ওর গানের সাথে আমার প্রথম পরিচয় রবীন্দ্র সংগীতের মাধ্যমে। গানটা এত ভালো গেয়েছে যে, আমি অনুষ্ঠানটার মধ্যে ডুবে যেতে থাকি। কেকার সাথে শুভাশিষের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে একটা অনানুষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টাটাও আমার ভালো লাগে। জাহেদের আবৃতি “হঠাৎ দেখা/বাঁশি” কবিতার সাথে নাচ। বেশ নতুনত্ব অনুভব করি। ইংরেজি গান আমি একদমই বুঝি না। বিষয়টা আমি এড়িয়ে যাবো, এটা আমার সীমাবদ্ধতা। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বনলতা সেনটাও ভালো হয় নাচের সঙ্গে। আর কেকার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান “এমনি করে যায় যদি দিন যাক না” একদম অসাধারণ! এই গানটাতে এসে অনুষ্ঠানটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরে। দর্শক অনুষ্ঠানের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। অনেক গতিময় হয়ে পরে অনুষ্ঠানটা। পরের গানটা ছিল মহিনের ঘোড়াগুলি, কেকা আর শুভাশিষের। একটা অন্য স্বাদের গান। কিছুটা স্বল্পশ্রুত হলেও, অনুষ্ঠানের সাথে মিলিয়ে যায়।  এরপরে আসে একটা চমক। অভিজিৎ সাহার কণ্ঠে “বিস্তীর্ণ দুপারে, অসংখ্য মানুষের”। অভির গান আমি আগে শুনেছি। এবার সে মাত করে দিয়েছে। এ গানের সাথে নাচটা ছিল, একদম মিলিয়ে। খুব ভালো লেগেছে আমার। প্রথমে নাচের দলে চারজন ছিল। পরে পঞ্চম জন যোগ দেয়। এই পঞ্চমজনের অনুপ্রবেশ এত সহজ এবং সাবলীলভাবে হয়েছে, অবাক হওয়ার মতো। মনে হয়েছে, গঙ্গার ঢেউয়ে একটা নূতন ঢেউ এসে যোগ হলো। আমার অনেকদিন মনে থাকবে, এই গানের সাথে নাচটা। অভিভূত হয়েছি। 

এর পরের গানটা ছিল রবীন্দ্রনাথের, “সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেকে অপমান।” সুভাশিষ আর কেকা মূল গায়ক। কিছু কিছু জায়গায় সমবেত কণ্ঠে। এই গানটা আমার কাছে একটা অন‍্য অর্থ বহন করে। আমি নিজেকে একটু লাজুক প্রকৃতির মনে করি। অনেক কিছুতেই সংকোচ আমাকে সত‍্যিই বিহ্বল করে ফেলে। ১২/১৪ বছর বয়সে আমি স্কুলে ড্রাম/ঢাক এগুলি বাজাতাম। আর একটু বড় হলে, শহরের কিছু যুবকেরা একটা অর্কেস্ট্রার দল খুলল। আমাকে ড্রাম বাজানোর জন‍্য বলতে থাকলো। সংকোচে আমি যোগ দিতে পারি নাই। হয়ত যোগ দিলে, ওটাও শিখতে পারতাম। “মুক্ত করো ভয়, আপনা-মাঝে শক্তি ধরো, নিজেকে করো জয়”, আমার মনে হয় প্রত‍্যেকটা মানুষকে জন্মের পর থেকে যে দর্শনটা শেখানো উচিত, সেটা হলো “নিজেকে করো জয়”। আমি মন ভরে গানটা শুনেছি। 

তারপরেই বিপত্তি ঘটলো আমার সাথে। জাহেদের কণ্ঠে নির্জরের স্বপ্নভঙ্গ! “আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!

না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।”  এই কবিতাতে সূর্য‍্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণ জেগে ওঠা, সে এক ভয়ানক উচ্ছ্বাস! আমার একটা অতীত স্মৃতি আছে এই কবিতার সাথে। বাংলাদেশের প্রখ‍্যাত অভিনেতা গোলাম মোস্তফার কণ্ঠে আমি শুনেছি কবিতাটা। আমার ভীষণ আবেগের এই কবিতাটা। এখনও নতুন কোনো আবৃতিকারের আবৃতি পেলেই আমি শুনি। গোলাম মোস্তফার কন্ঠেরটা আমার কাছে এখনও মনে হয় সেই প্রাণের উচ্ছ্বাসটা উঠে এসেছিল। আমি যখন মনে মনে পড়ি এই কবিতাটা, আমি অনুভব করি সেই উচ্ছ্বাসটা। এর সাথে একচা নাচও ছিল। সব মিলিয়ে এই কবিতাটা আমি তেমন উপলব্ধি করি নাই। এটা আমার কিছুটা সীমাবদ্ধতা। কেউ আবৃতি করতে নিলে, প্রথমেই ধরে নেই, পারবে না! 

এলভিস প্রিসলির গানের সাথে ছিলে রবীন্দ্রনাথের কবিতা অনন্ত প্রেম, জাহেদের কণ্ঠে।
“তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি 

শত রূপে শত বার

জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।”
ও যতগুলি কবিতা আবৃতি করেছে, তার ভেতরে সেরা ছিলে এইটা। ওর কণ্ঠ, ওর আবেগ সব মিলিয়ে এই কবিতাটা আমার কাছে অনুষ্ঠানের সেরা আবৃতি মনে হয়েছে। তারপরে কেকা ও শুভাশীষের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান “তোমারও অসীমে প্রাণমন লয়ে-“ একদম মন ভরিয়ে দেয়। এর পরপরই ছিল কবীর সুমনের সাড়া দাও গানটা শুভাশীষের কণ্ঠে। 

এবার যেটা নিয়ে কথা বলবো, সেটা হলো রবীন্দ্রনাথের পথের বাঁধন কবিতাটা। এটা ছিল অনুষ্ঠানের শেষ আবৃতি, জাহেদের কণ্ঠে। নিঃসন্দেহে সে ভালো আবৃতি করেছে। চমকটা ছিল অন‍্য জায়গায়। আবৃত্তির সঙ্গে নাচ ছিল। পথের বাঁধন কবিতাটা আমরা সবাই জানি, “পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি, আমরা দুজন চলতি হাওয়ার পন্থি।” এই যে কবিতাটায় আমরা দুজন, এই দুজন সব সময় একটা ছেলে আর একটা মেয়ে, এমনই ভেসে উঠতো আমাদের কল্পনায়। জাহেদ এটাকে ভেঙে দিয়েছে। ও নাচটা করিয়েছে দুজন ছেলেকে দিয়ে। অনুষ্ঠান দেখার পরেও বার দুয়েক পড়েছি কবিতাটা। কখনও মনে হয়নি রবীন্দ্রনাথ “দুজন” বলতে একটা ছেলে ও একটা মেয়ে বুঝিয়েছে। বরঞ্চ মনে হয়েছে আলোর পিপাসী যে কোনো সমমনা মানুষ জীবনের একই পথ চলতে গিয়ে এমন বন্ধনহীন গ্রন্থিতে আবদ্ধ হতে পারে। এটা ছিল ওর নতুন একটা দৃষ্টিভঙ্গি। 

এরপরেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পালা। “বড় আশা করে এসেছি গো জননী” যে কোনো অনুষ্ঠান শেষ করবার জন্য এই গানটা ছিল একটা মারণাস্ত্র। এই গানটা শেষ গান হিসাবে শুনে অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে আসলে, মানুষের মাথার মধ‍্যে ঘুরতে থাকে এই গানটা। তার সাথে ওরা যোগসূত্র ঘটিয়েছে we shall overcome গানটির। দুইটা গান দুই দিক থেকে বয়ে আসা দুটি নদীর মতো। হয়ত একই চাওয়া থেকে দুইটা গানের জন্ম। হয়ত গন্তব্য একই, কিন্তু গতিপথ আলাদা।  আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে পেছনের সেই R কেটে দেয়া Revolution না Evolution দেখছি আর ভাবতে শুরু করেছি। সবশেষে মনে হলো, এগুলি কিছু না, “Life is a Motion”

সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি ছিল একদম সম্পূর্ণ ভাবে শতভাগ বাঙালি সাংস্কৃতিতে ভরপুর। আমার কাছে মনে হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতিকে আধুনিকায়ন করে ওরা আন্তর্জাতিক ভাবে পরিবেশন করতে পেরেছে। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে বাঙালি সংস্কৃতি বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের আধুনিকতা দেখতে পেয়েছি। আমার শুধু ভালোই লাগে নাই, নতুন প্রজন্মের কাছে পরাজিত হওয়ার আনন্দ উপভোগ করেছি।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন