Logo

প্রবাস

মিনিয়াপোলিসে বাংলাদেশি নারীকে গাড়ি থেকে ‘টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে’ আটক

Icon

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭

মিনিয়াপোলিসে বাংলাদেশি নারীকে গাড়ি থেকে ‘টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে’ আটক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে এক বাংলাদেশি নারীকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার এজেন্টরা। মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। আটক হওয়া নারীর নাম আলিয়া রহমান (৪৩)। তিনি একজন মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী এবং পেশায় সফটওয়্যার প্রকৌশলী।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন মিনিয়াপোলিসে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত ও আটকের একটি অভিযানে অংশ নেয় আইসিই। অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে। অভিযোগ রয়েছে, আলিয়া রহমান তার গাড়ি ব্যবহার করে আইসিই এজেন্টদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী আইসিই এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনছেন। এ সময় আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন, তিনি চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছিলেন। আশপাশে থাকা বিক্ষোভকারীদেরও এজেন্টদের থামাতে চিৎকার করতে শোনা যায়।

আইসিই যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনে পরিচালিত একটি সংস্থা। অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অবৈধ অভিবাসীদের আটক, বিচার প্রক্রিয়া এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা সংস্থাটির মূল দায়িত্ব।

আইসিইর দাবি, অভিযানের সময় আলিয়া রহমান তাদের সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। তবে মঙ্গলবারের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।

আলিয়া রহমান নিজেকে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো হিসেবে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে কাজ করেছেন। লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সাইবার নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন পেশাজীবী।

আলিয়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাস করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছি। পোশাকশ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে দেখেছি।’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলায় তার দুই কাজিন নিহত হন। এরপর থেকে তিনি ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং এলজিবিটি অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

যুক্তরাষ্ট্র

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর