নিউইয়র্কে বাংলাদেশি যুবককে পুলিশের গুলির ঘটনায় মেয়রের ‘অস্পষ্ট’ ব্যাখ্যা
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২১
নিউইয়র্কের কুইন্সে মানসিকভাবে অসুস্থ বাংলাদেশি যুবক জাবেজ চক্রবর্তীকে (২২) পুলিশের গুলি করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে মেয়র তার প্রস্তাবিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি সেফটি’ গঠনের পরিকল্পনা পুনরায় তুলে ধরলেও এই সংস্থাটি আসলে কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে পারেননি। ফলে মেয়রের ব্যাখ্যাকে ‘অস্পষ্ট’ ও ‘কৌশলী’ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিনামূল্যে আয়কর সেবা প্রদান সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য সেবার জন্য এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে প্রতিরোধমূলক যত্ন ও বাস্তব সংকট মোকাবিলার সুযোগ থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশকে যেন একা সব সামলাতে না হয়, সেজন্যই আমি এই নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি।’ তবে সমালোচকদের মতে, জাবেজ চক্রবর্তীর ঘটনার মতো জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই বিভাগ কতটুকু কার্যকর হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
এর আগে, গত ২৬ জানুয়ারি কুইন্সের নিজ বাসায় সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত জাবেজ চক্রবর্তীর সঙ্গে নিউ ইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জাবেজের পরিবার দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠন ‘ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং’-এর মাধ্যমে জানায়, ঘটনার সময় জাবেজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে তারা ৯১১ নম্বরে ফোন করে শুধু অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলেন, পুলিশ নয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেখানে পুলিশ গিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পুলিশের দাবি, জাবেজ বড় একটি ছুরি নিয়ে তেড়ে আসায় তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জাবেজের পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ তাদের ফোন জব্দ করেছে এবং তারা কোন দেশের নাগরিক তা জানতে চেয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে মেয়র বিস্তারিত কিছু না বললেও জানিয়েছেন যে তদন্ত চলছে। হাসপাতাল থেকে জাবেজকে দেখে আসার পর মেয়র বলেন, ‘জাবেজের প্রয়োজন উন্নত মানসিক চিকিৎসা, কোনো ফৌজদারি মামলা নয়।’
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, দ্রুতই ঘটনার সময়ের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করা হবে। এই ঘটনায় নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কেই/এমএইচএস

