Logo

ফিচার

সালাহউদ্দিন সুমনের ক্যামেরার লেন্সে দুনিয়া দেখতে যেমন

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৩:৩৩

সালাহউদ্দিন সুমনের ক্যামেরার লেন্সে দুনিয়া দেখতে যেমন

বাংলাদেশে ভ্রমণবিষয়ক ভিডিও এখন জনপ্রিয় ধারার কনটেন্ট। নানা ভ্লগার নতুন নতুন জায়গায় গিয়ে ক্যামেরায় বন্দি করছেন পথের অভিজ্ঞতা। তবে এই ভিড়ের মধ্যেও কিছু মুখ আলাদা করে চোখে পড়ে। তাদের একজন সালাহউদ্দিন সুমন।

ভ্রমণ, ইতিহাস আর মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গল্প যেভাবে তিনি উপস্থাপন করেন, তা তাকে এই প্রজন্মের অন্যতম প্রভাবশালী ভ্রমণডকুমেন্টারিস্ট—এ কথায় দ্বিমত নেই কারো।

সাংবাদিকতা ছেড়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে ওঠার যাত্রা
সুমনের যাত্রা শুরু সাংবাদিকতা দিয়ে। মাঠে-ময়দানে ছুটে বেড়ানো, খবর সংগ্রহ, মানুষের সমস্যার মুখোমুখি হওয়া— এসবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। কিন্তু পাশাপাশি আরেকটি আগ্রহ নীরবে জায়গা করে নেয়— দেশের ইতিহাস, অজানা গ্রাম, পুরোনো নির্মাণ, নদীপথের গল্প।

এই আগ্রহ ধীরে ধীরে এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে, একসময় মনে হতে থাকে— শুধু টেলিভিশনের খবর তার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি নিজের দেখা, শোনা, অনুভব করা গল্পগুলো সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান আরো সাবলীলভাবে ও স্বাধীনভাবে। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয় তাঁর ভ্রমণকেন্দ্রিক কাজ। এক পর্যায়ে সাংবাদিকতা ছেড়ে পুরোদমে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নেন সুমন যা আজ তাকে আরো অনেক বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে।

দেখার চেয়ে দেখানো— অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি
সুমনের ভিডিও দেখলে প্রথমেই চোখে পড়ে তাঁর পর্যবেক্ষণশক্তি। তিনি কোথাও গেলে কেবল দৃশ্য দেখান না; খুঁজে বের করেন সেই জায়গার পেছনের ইতিহাস, মানুষের জীবনযাত্রা, সময়ের পরিবর্তন আর স্থানটির বিশেষত্ব। একটি ভাঙা মসজিদ বা অবহেলিত শিলালিপিও তাঁর বর্ণনায় নতুন অর্থ পায়। একটি গ্রামের কৃষকের সঙ্গে দুই মিনিটের কথোপকথনেও উঠে আসে জীবনবোধ। এই সহজ কিন্তু গভীর গল্প বলার ধরনই তাঁকে আলাদা করেছে অন্যদের থেকে।

দেশকে দেখানোর নতুন প্রয়োজন 
বাংলাদেশে ভ্রমণ মানে অনেকের কাছে শুধু পাহাড়-সমুদ্র— এই সীমাবদ্ধতা সুমন ভেঙেছেন। তিনি তুলে এনেছেন ভুলে যাওয়া মঠ, প্রাচীন নদী ঘাট, অপেক্ষাকৃত অজানা দুর্গ, প্রত্যন্ত গ্রামীণ সংস্কৃতি, সীমান্ত অঞ্চলের বহু-বর্ণের জীবন। 

অনেক দর্শক মন্তব্য করেন—
‘জায়গাটার নাম কখনো শুনিনি, সুমনের ভিডিও দেখে প্রথম জানলাম।’ এসব তথ্যনির্ভর কনটেন্ট দেশের ভ্রমণখাতকেও নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

দেশের বাইরে গিয়ে আরও বিস্তৃত দৃষ্টি
দেশের মতো বিদেশেও তাঁর কাজ সমান মনোযোগ পায়। তিনি ইতোমধ্যেই পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে ঘুরে অসংখ্য ভ্রমণ বিষয়ক কন্টেন্ট তৈরি করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন সৌদি আরবে গিয়ে ইসলামের ইতিহাস, সর্বোচ্চ ট্রেনে চেপে নিষিদ্ধ নগরী লাসা যাওয়া ও তিব্বতিয় মালভূমি ভূপ্রাকৃতি কিংবা মঙ্গোলীয়ার বিস্তৃর্ণ তৃণভূমিতে যাযাবরদের জনজীবন। 

অপরিচিত শহর, ভিন্ন সংস্কৃতি, নতুন মানুষের সঙ্গে আলাপ— সবকিছুর মধ্যেই তিনি খুঁজে নেন অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার দিক।

সুমনের ভিডিওতে শুধু ‘কি সুন্দর’—এটা থাকে না; থাকে—

‘মানুষগুলো এমন কেন?, ‘এ সংস্কৃতির শেকড় কোথায়?’, ‘আমরা এখান থেকে কী শিখতে পারি?’ এই মানবিক ও অনুসন্ধানী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অন্যরকম ভ্রমণ-কথ্যকার করে তুলেছে।

জনপ্রিয়তা নয়, আন্তরিকতাই মূল শক্তি
সুমন নিজে খুব সাদামাটা। ক্যামেরার সামনে অতিরঞ্জিত আবেগ দেখান না, নিজের উপস্থিতিকে বড় করে তোলেন না। তার ভিডিওতে জায়গার গুরুত্ব বেশি, নিজের কম। দর্শক তাই খুব সহজেই তাঁর সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পান। এই স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতাই তাঁর জনপ্রিয়তার মূল পুঁজি।

স্বীকৃতি ও অর্জন : পরিশ্রমের প্রাপ্য ফল
দীর্ঘদিনের ধৈর্য, নিয়মিততা ও গবেষণাভিত্তিক কনটেন্ট তাঁকে এনে দিয়েছে স্বীকৃতি। দেশি-বিদেশি প্ল্যাটফর্ম তাঁর কাজকে প্রশংসা করছে।

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। তবে সংখ্যার চেয়ে বড় কথা—তিনি এখন দেশের ভ্রমণ-ডকুমেন্টারি ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার পথিকৃৎদের একজন।

ভ্রমণ থেকে উদ্যোগে
সাম্প্রতিক সময়ে সুমন শুধু ভিডিও নির্মাণে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি ভ্রমণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন, মানুষের সঙ্গে সরাসরি পথচলার অভিজ্ঞতা ভাগ করছেন। এভাবে তাঁর কাজ আরও বাস্তব ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।

আগামী দিনের দিকনির্দেশনা
সুমনের কনটেন্ট দেখলে মনে হয় এই পথ চলা শুধু শুরু। তাঁর গল্প বলার ধরন, পর্যবেক্ষণশক্তি এবং মানুষের প্রতি টান তাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবে। সম্ভবত পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি, বই, বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সিরিজের দিকে। বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরার আরও অনেক সুযোগ তার সামনে অপেক্ষা করছে।

শেষ কথা 
সালাহউদ্দিন সুমন শুধু ভ্রমণ ভিডিও নির্মাতা নন; তিনি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের গল্পকে নতুনভাবে সামনে আনার একটি নীরব শক্তি। তার কাজ প্রমাণ করেছে— ভ্রমণ শুধু চোখে দেখার বিষয় নয়, মন দিয়ে বোঝার বিষয়ও। এ কারণেই তিনি এই প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা, আর কনটেন্ট জগতের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। 

এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ভ্রমণ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর