নিজেদের একটি ফ্ল্যাট কেনা প্রায় প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন। ভাড়া বাসায় মাসে মাসে বাড়ি ভাড়া গোনার সঙ্গে আছে নানা ঝামেলাও। এ জন্য একটু কষ্ট করে হলেও অনেকেই টাকা জমিয়ে বা ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনছেন। ব্যাংকও এখন আবাসন খাতে ঋণ আগের চেয়ে বেশি দিচ্ছে। এদিকে নির্মাণসামগ্রীর দামের ওঠানামা সত্ত্বেও রাজধানী ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্টের বাজার বর্তমানে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
শীর্ষস্থানীয় আবাসন কোম্পানি এবং বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এলাকা, নাগরিক সুবিধা ও নির্মাণ মানের ওপর ভিত্তি করে ফ্ল্যাটের দামে এখন স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। তবে উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ফ্ল্যাট বিক্রির গতি কিছুটা ধীর হলেও ভালো লোকেশনের প্রজেক্টগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ কমেনি।
এলাকাভিত্তিক অ্যাপার্টমেন্টের দাম
অভিজাত এলাকা
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম এখনো আকাশচুম্বী। এসব এলাকায় নতুন অ্যাপার্টমেন্টের প্রতি বর্গফুট মূল্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে কূটনৈতিক অঞ্চলগুলোতে লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
মধ্যম আয়ের এলাকা
ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম (প্রতি বর্গফুট) সাধারণত ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে। তবে ধানমন্ডির পুরোনো ব্লকে কিছুটা কম দামে ফ্ল্যাট পাওয়া গেলেও নতুন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্রকল্পে দাম বেশি। অন্যদিকে, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের মতো জনপ্রিয় এলাকায় প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম ৮ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উদীয়মান ও প্রান্তিক এলাকা
আফতাবনগর, বাড্ডা, খিলগাঁও ও দক্ষিণখানের মতো এলাকাগুলোতে প্রতি বর্গফুট অ্যাপার্টমেন্টের দাম ৬ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। ঢাকার প্রান্তিক এলাকাগুলোতে কম দামে বড় ফ্ল্যাট পাওয়ার সুযোগ থাকলেও যাতায়াত ও নাগরিক সুবিধার বিষয়টি ক্রেতারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। মনে রাখা জরুরি, বিশেষ করে মেট্রোরেল স্টেশন থেকে দূরত্ব, ভবনের ফ্লোর লেভেল, পার্কিং সুবিধা এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সুনামের ওপর ভিত্তি করে একই এলাকায় দামের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হতে পারে।
বাজার স্থিতিশীল থাকার কারণ
আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর দাম কিছুটা কমলেও জমির চড়া দাম ও রেজিস্ট্রেশন খরচ বেশি হওয়ার কারণে ফ্ল্যাটের দাম খুব একটা কমছে না। তবে বর্তমানে চলমান রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫ উপলক্ষে অনেক কোম্পানি বিশেষ ছাড় ও কিস্তি সুবিধা প্রদান করছে, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
চাহিদার ওপর নির্ভর করে ফ্ল্যাটের দাম
ফ্ল্যাটের উচ্চমূল্যের জন্য মানুষের চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং জমির আকাশছোঁয়া দামকে সামনে আনেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। কারণ, যেসব এলাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভালো, সেসব এলাকায় ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি। যেমন মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর মিরপুরে ফ্ল্যাটের চাহিদা বেড়েছে। ফলে ফ্ল্যাটের দামও বাড়ছে। এ ছাড়া ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট নির্মিত হয়েছে ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, লালমাটিয়া, মিরপুর, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কলাবাগান, শান্তিনগর, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ, মণিপুরিপাড়া, গ্রিন রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও সেগুনবাগিচায়।
ঢাকার বাইরে ফ্ল্যাটের দাম
অন্য বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ফ্ল্যাটের দাম ঢাকার মতো না হলেও এলাকাভেদে ভিন্ন। সূত্রমতে, ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের গড় দাম খুলনায় প্রতি বর্গফুট চার হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রতি বর্গফুট ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে রাজশাহীতে ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের গড় মূল্য প্রতি বর্গফুট সাড়ে চার হাজার টাকা। তবে বরিশাল তুলনামূলক সাশ্রয়ী। সেখানে দেড় হাজার বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের গড় মূল্য প্রতি বর্গফুট এক হাজার টাকা। সিলেটে ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের গড় মূল্য প্রতি বর্গফুট তিন হাজার টাকা। রংপুরে দেড় হাজার বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্টের গড় মূল্য প্রতি বর্গফুট পাঁচ হাজার টাকা। যদিও ফ্ল্যাটের চূড়ান্ত দাম লোকেশন ও প্রাপ্ত সুবিধাদির ওপর ভিত্তি করে কমবেশি হতে পারে।
বিকেপি/এমবি

