Logo

স্বাস্থ্য

বিশ্বে প্রতি ৫ অকালমৃত্যুর ১টি হৃদরোগে

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২১:৪৪

বিশ্বে প্রতি ৫ অকালমৃত্যুর ১টি হৃদরোগে

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বে প্রতি পাঁচটি অকালমৃত্যুর মধ্যে একটির জন্য দায়ী হৃদরোগ, যার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। অথচ শতকরা ৮০ ভাগ হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশই হৃদরোগে ঘটে। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সহজলভ্য করলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত ‘উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ ঝুঁকি’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন জনস্বাস্থ্য ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

আয়োজনে সহযোগিতা করে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডোন্ট মিস এ বিট’।

ওয়েবিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি চার প্রাপ্তবয়স্কে একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর গ্লোবাল রিপোর্ট অন হাইপারটেনশন ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ হৃদরোগে মারা যায়, যার ৫২ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ। প্রতিবেদনে ওষুধের প্রাপ্যতাকে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও জীবন রক্ষার অন্যতম সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল শাফি মজুমদার বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ হার্টের রক্তনালী সরু করে কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সময়মতো উচ্চ রক্তচাপ সনাক্ত ও ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিবিএইচসি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. গীতা রানী দেবী জানান, ‘ওষুধ সরবরাহে কিছু ঘাটতি থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় আমরা এখন সব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকেই ওষুধ সরবরাহের চেষ্টা করছি।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের হার বাড়ালে হৃদরোগের প্রাদুর্ভাবও কমে আসবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল মনে করেন, ‘ঝুঁকি কমাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

ব্র্যাক জেমস পি. গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, পপুলেশন লেভেলে সিস্টোলিক রক্তচাপ মাত্র ৫ মিমি. পারদচাপ কমালে দেশে স্ট্রোক ১৪ শতাংশ এবং হৃদরোগজনিত মৃত্যু ৯ শতাংশ কমানো সম্ভব।’

ওয়েবিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস। সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞার কোঅর্ডিনেটর সাদিয়া গালিবা প্রভা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

এসআইবি/এমএইচএস 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন