দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। তাই হামের প্রাদুর্ভাব রোধে আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে সরকার।
এদিন সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে জরুরি টিকাদান শুরু হয়। আর ঢাকায় শুরু হয় গত ১২ এপ্রিল।
গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ব্যাপকভাবে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা কথা জানান। পাশাপাশি টিকার কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ হাজার। আর হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ২১৩ শিশু।
হঠাৎ হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিগত দুই সরকারকে দায়ী করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার রাজধানীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে শিশুদের হামের টিকা না দেওয়া বিগত দুই সরকারের ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’ ক্ষমাহীন অপরাধ।
ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়— সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ডোজ নেওয়ার পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে হামের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
যেভাবে বুঝবেন শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।
তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে, তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জন এবং সন্দেহজনক আরও ১৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া এ সময় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবং সন্দেহজনক আরও ২৩ হাজার ৬০৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।
গত শুক্রবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ম্যাসিভভাবে হামের টিকার কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে কোনো টিকার ঘাটতি নেই, তাই অপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেওয়া যাবে না।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু হামের কারণে মৃত্যুর রেকর্ড নেই, যে শিশুরা মারা যাচ্ছে তাদের হামের সঙ্গে রয়েছে শরীরের অনান্য জটিলতা।
হাম হলে ভয় বা আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব কমাতে ঘরে ঘরে টিকা কার্যক্রম সফল করার তাগিদ দেন তারা।
চিকিৎসকরা বলেন, এর জন্য সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। শিশুকে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে পুষ্টিকর খাবারের।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

