সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়তই আক্রান্ত হচ্ছে নতুন নতুন শিশু। এতে হাম আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। হামে রেকর্ড সংখ্যক শিশু আক্রান্তের পর আবারও রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। গত দুই মাসেও কমানো যায়নি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের ড়িড়। প্রতিদিন হাসপাতালের আউটডোরে হামের উপসর্গ নিয়ে ড়িড় করেন স্বজনরা। ফলে দেশে হাম নিয়ে যেন উদ্যোগ বাড়ছেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছিল। আর হামের উপসর্গ ছিল ১১ জনের। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৩৮ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৪৯৮ জন।
হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে ১ জন, ঢাকায় ৫, খুলনায় ১, ময়মনসিংহে ১, রাজশাহীতে ২ জন ও সিলেটে ১ জন মারা গেছে।
এর আগে ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৮৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ২০৮ জন।
১৫ মার্চ থেকে ৭ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১ হাজার ৯১২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৮ হাজার ২৩৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনসহ ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৫৮১ জন হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৭৭ জন।
হাম কী ও কীভাবে ছড়ায়: হাম মূলত ‘মিজেলস’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ নিয়ে হাম আবির্ভূত হয়।
মিজেলস ভাইরাসটি শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে হামে আক্রান্ত হলে শিশু এর বাইরেও নানা রকম ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দ্বারা সহজে সংক্রমিত হয়।
হামের জটিলতায় আরও যা হতে পারে: হামের জটিলতা হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রায়ই নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া হতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুর শরীরে ভিটামিন এ–এর মজুত মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে শিশুর চোখের পানি কমে যায় বা চোখ শুষ্ক হয়ে যায়, এ থেকে রাতকানা থেকে শুরু করে অন্ধত্ব পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর কানপাকা, মুখে ঘা, মারাত্মক অপুষ্টি, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ আরও অনেক রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কীভাবে ছড়ায়: হাম খুবই ছোঁয়াচে। হাঁচি, কাশির মাধ্যমে মুহূর্তেই হামের ভাইরাস আক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে আশপাশে থাকা অনেক সুস্থ্ শিশুকে আক্রান্ত করতে পারে। এর ফলে এটি এলাকাজুড়ে ছড়াতে পারে।
দেশব্যাপী চলছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি: এদিকে, দেশে হাম প্রতিরোধে টিকার জোগান বাড়ছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী চলছে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। তবু হামে শিশুমৃত্যু থামছে না। ৫২ দিনে হাম ও এর উপসর্গে ৩২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের দুবার ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। একবার ৯ মাস বয়সে আর দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বয়সে। ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৮৮ শতাংশ দুই ডোজ ‘এমআর’ টিকা নিয়েছে। তারা প্রায় সারা জীবনের জন্য হামের সংক্রমণ থেকে মুক্ত।
নতুন করে টিকা আসার পাশাপাশি সাপ্তাহিক চালান অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত বুধবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ইউনিসেফের পাঠানো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার চালান গ্রহণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এক চালানে ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে এসেছে। পাশাপাশি ৯ হাজার টিডি-টিটাস সিরিজের টিকাও পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহেই নতুন টিকার চালান দেশে পৌঁছবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ মে প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব টিকার সরবরাহ সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, সরকার এরই মধ্যে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ১০ ধরনের মোট ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পাহাড়ে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব: এবার পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতেও বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু এবং তারা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশু ভর্তি হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই তিন গুণ পর্যন্ত শিশু রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারিভাবে মাত্র ১৫ শয্যা বরাদ্দ থাকলেও কিছুদিন ধরে ৩০জনের অধিক রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে ৩ জন।
এদিকে, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় পরিবারগুলো। প্রতিদিন নতুন করে ১০ থেকে ১৫ জন শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালে হামসহ বিভিন্ন রোগে ভর্তি ছিলেন ১০১ জন। এর মধ্যে ৭৭ জনই হামে আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত উপজেলায় মোট শনাক্ত হামের রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৬ জনে।
একদিনেই নতুন করে ১৩ জন হাম আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৫ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট ১৩৮ জন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২৮ রোগী। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৮ জন।
হামে আক্রান্তদের মৃত্যু বাড়াচ্ছে নিউমোনিয়া: হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে শিশুরা। এরা সবাই গুরুতর অসুস্থ, বিশেষ করে হামের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এসব রোগীর সুস্থ হতেও সময় লাগছে বেশি। হামের পর শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, ফলে তারা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। হামের পর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশই নিউমোনিয়া আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন যেসব রোগী আসছে, তারা সবাই মূলত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রেফার্ড হয়ে আসা। তারা সবাই জটিল রোগী। হাম আগে হয়েছে এবং হাম হওয়ার কারণে শিশুরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে—তারা বেশির ভাগ অপুষ্টির শিকার। হামের পর শিশুর ইমিউনিটি আরো কমে যাচ্ছে, ফলে তারা সহজে ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ইমিউনিটি কম থাকার কারণে তাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করছে না। মৃত্যু হওয়া ৯০ ভাগ শিশুই নিউমোনিয়া নিয়ে মারা যাচ্ছে। আর ডায়রিয়ায় মৃত্যু আছে দুই-একটা এবং এনকেফালাইটিস আছে কিছু।’
বিশেষজ্ঞ যা বলছেন: হামের টিকার অপ্রতুলতা, শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন না হওয়া, কোভিড-পরবর্তী কিছু মানুষের টিকা বিমুখতা, কোভিড ছাড়া অন্যদিকে দৃষ্টি কম দেওয়া এবং বিগত সরকারের সময়ে টিকার ঘাটতি, টিকা কাভারেজে ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দফায় দফায় আন্দোলনসহ—নানা কারণে শিশুদের টিকা না পাওয়াকেই হামের এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ‘কোনো একটা রোগকে প্রতিরোধ করতে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষের টিকা নিশ্চিত করতে হয়। গত বছর ২০২৫ সালে ইমিউনাইজেশনের হার ছিল শতকরা ৬৯ শতাংশ; যা অনেক কম। গত দুই বছর আমাদের টার্গেট ভ্যাকসিনেশনের কাভারেজ ৯৫ শতাংশ ছিল না। এখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে নিচ্ছে।’
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ভালো হয়ে যাওয়ার পরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ শিশুকে খুব যত্নে রাখতে হবে। কারণ শিশুটি মাত্রই একটা বড় ধরনের অসুস্থতা থেকে উঠেছে, তাকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, শিশুকে নিয়ে অযথা বাইরে ঘোরাফেরা করা যাবে না। ভালো পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। তা না হলে শিশু দ্রুত অন্য রোগে আক্রান্ত হবে।
দুই ডোজ টিকা পাওয়ার পরও কেন আবার হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে? এর কারণ, এখনো অনেক জায়গায় অনেক শিশু এই ‘এমআর’ টিকা পায়নি বা টিকা দেওয়ার জন্য তাকে টিকাকেন্দ্রেই নিয়ে যাওয়া হয়নি; কেউ কেউ একটা নিয়েছে। এর ফলে এসব টিকাবঞ্চিত শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যেমন বেশি, আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর আশঙ্কাও অনেক বেশি। অনেক সময় টিকা প্রাপ্তের শরীরে আশানুরূপ হাম প্রতিরোধক অ্যান্টিবডি তৈরি না হলেও সে পুনরায় হামে আক্রান্ত হতে পারে।
হামে আর একটি মৃত্যুও দেখতে চাই না- নাহিদ: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, হামের কারণে আর কোনো শিশুর মৃত্যু আমরা দেখতে চাই না। সরকারকে দ্রুত চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তার মতে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে, যা আঞ্চলিক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অভিভাবকদের করণীয়: কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। এ সময় আক্রান্ত শিশুর খাবার, পানীয় ও অন্যান্য স্বাভাবিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকসহ তাকে পরপর দুই দিন দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী সঠিক ডোজে খাওয়াতে হবে।
হামে আক্রান্ত শিশুর যদি কোনো বিপদচিহ্ন, যেমন শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি বা নিস্তেজ হয়ে পড়া, চোখের মণি ঘোলা হয়ে আসে বা মুখের ভেতর গভীর ঘা থাকে, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। সেখানে শিশুকে আলাদা ওয়ার্ডে বা কেবিনে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে। যদি হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর দৃষ্টি সমস্যা বা দেখতে অসুবিধা হয়, কিংবা চোখের মণি ঘোলা লাগে, তাহলে ১৪ দিনের মাথায় আরও একটা ভিটামিন এ ক্যাপসুল (মোট ৩টি) দিতে হবে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

