ছবি: সংগৃহীত
হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ নিয়ে গত ৭১ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৫৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে ৮৭ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সোমবার (২৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এ হিসাব ২৪ মে সকাল আটটা থেকে আজ ২৫ মে সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে সাত শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে তিনজন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে দুজন করে এবং ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ১২৭ জন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৭ শিশু। তাদের মধ্যে ৪২৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (২০৮), বরিশাল (১২৮) ও খুলনা (৯৫)। গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৪০৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ৭১ দিনে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৫ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে আট হাজার ৭১৯ জনের। এ ছাড়া ৭১ দিনে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।
দুই কোটিরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে-স্বাস্থ্যমন্ত্রী: দেশে এখন পর্যন্ত দুই কোটিরও বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে যে ১৮টি উপজেলায় টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছিল, সেখানে হামের সংক্রমণ হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে পুরাতন ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শন করেন। ঈদুল আজহার আগে হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সেবা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা দেখতে কুমিল্লায় এই সফরে আসেন মন্ত্রী।
হামে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে স্বাধীন তদন্ত চাচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ জন মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েও যদি হাম সংক্রমণে মায়ের বুক খালি হওয়া থামাতে না পারি, তাহলে কি আমি রক্ষা পাবো? শুধু শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো হামে আক্রান্ত শিশুদের রক্ষা করা এবং আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, সেটা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

