Logo

স্বাস্থ্য

বিশেষ টিকার বাইরে থাকারাই আক্রান্ত হচ্ছে

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৩

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু থামছেই না। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে তিন জন ঢাকা বিভাগে মারা গেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা বলছেন, সরকারের বিশেষ টিকার বাইরে থাকা শিশুরাই এখন আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চলতি বছরের গেল ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়, সারা দেশে এ পর্যন্ত সারাদেশে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ শিশুর। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৮৫৪ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৩০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১১৫ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৫, ময়মনসিংহে ৭১, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৫৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৮৪১ জন।

ঢাকা বিভাগে ভর্তি ২৭৮ জন, রাজশাহীতে ৩১, সিলেটে ১১৯, চট্টগ্রামে ১৯৪, বরিশালে ১১৪, ময়মনসিংহে ৩৭, খুলনায় ৬০, রংপুরে আট জন।

এ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন। যার মধ্যে এক লাখ ১১ হাজার ৫ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩২ সহাজার ৯০৫। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৫৫।

চিকিৎসকেরাও বলছেন, এখন যারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে তারা আসলে টিকার আওতায় আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা দেওয়ার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও, এখনো হামে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পরও সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত থাকার অন্যতম কারণ হলো লক্ষ্যভিত্তিক সব শিশুকে টিকার আওতায় না আনা। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের নিচে প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ শিশুকে সরকারের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে বাস্তবে এক কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৪০ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যা সংক্রমণ অব্যাহত থাকার একটি বড় কারণ।

সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় রুটিন টিকা কার্যক্রমে শিশুর ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। হামের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় শিশুর ১৫ মাস বয়সে। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে দেশব্যাপী হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার পাঁচ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের হাম-রুবেলার টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করে।

সরকারি হিসাবে দুই মাস ১০ দিন আগে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১০৩ শতাংশ টিকা দেওয়া হলেও আক্রান্ত ও মৃত্যু থামছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণ ও মৃত্যু প্রতিরোধে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন চালানো হলেও যথাযথ মাইক্রোপ্ল্যানিং না হওয়ায় তেমন কাজে আসেনি ওই কর্মসূচি। ফলে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু এখনো চলছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হাম একদম শেষ হয়ে যায়নি, এখনো আছে তবে তা কম। আউটডোরেও ভিড় কমেছে। হাম-পরবর্তী জটিলতা নিয়ে আসছে সবচেয়ে বেশি রোগী। এর মধ্যে নিউমোনিয়ার জটিলতা অন্যতম। এই নিউমোনিয়ায় মারাও গেছে সবচেয়ে বেশি শিশু।

জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, এই সরকার ছয় মাস সময় পেয়েছে, এখনো কেন বাচ্চারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে? এখন যারা হাম নিয়ে হাসপাতালে আসছে তারা কেউ টিকা পায়নি। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন