ধ্বংসস্তূপের পাশেই শিশুদের টিকা, থামেনি রাড্ডা কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা
স্বাস্থ্য ডেস্ক :
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৭
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, লুট হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধপত্র। কেন্দ্রটির মূল ফটকও এখন বন্ধ। কিন্তু এসবের মধ্যেও থেমে নেই স্বাস্থ্যসেবা। ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে বসে শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদানসহ সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রটির কর্মীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ফটক বন্ধ। ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ। গেটের বাইরে টেবিল-চেয়ার পেতে স্থানীয় শিশুদের নিয়মিত টিকা এবং চলমান বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইনের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ভিড় করতে দেখা যায়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশিয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। পরে এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
হামলার পর কেন্দ্রটির জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয় বলেও জানান স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের বিনা মূল্যে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম চৌধুরী দুই বছর বয়সী ছেলে জায়ান চৌধুরীকে হাম-রুবেলার টিকা দিতে কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ছোটোবেলায় আমাকেও এখান থেকে টিকা দিয়েছেন। পরে আমার বড় ছেলেকেও আমি এখান থেকে টিকা দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে গত পরশু এসে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হলো। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৫০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছে। কখনও শুনিনি এটি অন্য কারও জমি। আমরা চাই, এখান থেকেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম স্বাস্থ্যসেবা পাক। সরকার দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার করে আবার সেবা নিশ্চিত করুক।’
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইর সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নারীরা এলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। বাইরে বসে আর কতদিন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, তা বলা যাচ্ছে না।’
ভবন ধ্বংস, সরঞ্জাম লুট এবং সিলগালার কারণে কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও শিশুদের টিকাদানসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা হবে এবং দীর্ঘদিনের এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি আবার আগের মতোই নারী ও শিশুদের সেবা দেবে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

