# ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ডাক্তার-ওষুধের অভাব নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত একদিনে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। এছাড়াও গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮১ জনে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক এসব তথ্য জানানো হয়। এদিকে, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ডাক্তার, ওষুধ কোনো কিছুর অভাব নাই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়, যা মাসভিত্তিক হিসাবে এ বছরের সর্বোচ্চ। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৯৪৩ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৯ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৯৫ জন, চট্টগ্রামে ২৫৬ জন, খুলনায় ২৩৪ জন, ময়মনসিংহে ১০০, রাজশাহী ২৩০, রংপুরে ৭০ এবং সিলেটে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় সর্বোচ্চ ৪ জন রয়েছেন। এরপর ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় ৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ ও ঢাকা বিভাগে ১ জনের প্রাণ গেছে। মানচিত্রদেখুন
গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩০ জন। সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩১ জন।
এদিকে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮১ জনে।
এতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ২ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৯২ জন রোগী এসেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৫৬ জন, রাজশাহীতে ২৩, সিলেটে ১৩০, চট্টগ্রামে ৩১০ জন, বরিশালে ১৪৩, ময়মনসিংহে ৯৩, খুলনায় ১১১, এবং রংপুরে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৮৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯২৬ জন।
ডেঙ্গুর চিকিৎসায় ডাক্তার-ওষুধের অভাব নেই-স্বাস্থ্যমন্ত্রী: ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ডাক্তার, ওষুধ কোনো কিছুর অভাব নাই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন অটোমেশন পদ্ধতিতে ডাক্তার বদলির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্টারন্যাশনালি রেকগনাইজড ট্রিটমেন্ট প্রটোকলের কোনটা আমরা বাদ রাখছি? সবই হচ্ছে। আমাদের কোনো মেডিসিনের অভাব নাই, আমাদের ডাক্তারদের কোনো অভাব নাই, আমরা ট্রিটমেন্ট দিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। কোনো দিক থেকে আমাদের কোনো ঘাটতি নাই।
তিনি বলেন, আপনারা অনেকে প্রশ্ন করেন ভ্যাকসিন কেন আনেন না? এই ভ্যাকসিনের এটা এখনও ইন্টারন্যাশনালি সকল দেশে চালু হয় নাই। ভ্যাকসিনের একটা রিস্ক, মানুষের সাথে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটা হলে তো আমাদের এটা জবাবদিহি করতে হবে জনগণের কাছে। আমাদের ট্রিটমেন্ট চলছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলছে। ট্যাবলেট দিচ্ছি যেটা লিকুইড বের হয়েছে লার্ভিসাইড মারার জন্য। ফ্লাইং মশাকে মারার জন্য স্প্রে করা হচ্ছে। আমরা তো এমন কোনো কাজ নাই যেটা আমরা বন্ধ রেখেছি। আমরা সমস্ত কাজ করছি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজ পর্যন্ত ১৭ লাখ ক্রস করে ফেলছি। নতুন ৪০ লাখের মধ্যে আমরা দিছি, ১৭ লাখ কত হাজার পর্যন্ত যেন। আমরা ৩১ তারিখ পর্যন্ত এটা ১০০ শতাংশ কাভার করব, মিজেলসের টিকা।
তিনি বলেন, আমরা যেই টিকাটা ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত আমরা দিচ্ছি, মনে করেন আজকে থেকে আমরা নতুন যাত্রাটা শুরু করলাম ক্যাম্পেইনের। দুই মাস পরে যে বাচ্চাটা ছয়ে পৌঁছছে সে কিন্তু আনভ্যাক্সিনেটেড থাকছে। তার কিন্তু হাম হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

