জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে। এখন পর্যন্ত ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঘোষিত সর্বশেষ ফলাফলে রসায়ন, মনোবিজ্ঞান ও ইংরেজি বিভাগের ভোেট যুক্ত হয়।
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নতুন কেন্দ্রের ফল যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান কমছে-বাড়ছেে
এ পর্যন্ত ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী একেএম রাকিব পেয়েছেন ৩০১৩ ভোট। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৩৬৪ ভোট। ফলে মোট ভোটের হিসাবে রিয়াজুল ইসলাম ৩৫১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মোট ভোটের হিসাবে এগিয়ে রয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। জিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ১৩৭৯ ভোট, আর শিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৩৪৩৫ ভোট। এজিএস পদে ছাত্রদল সমর্থিত বি এম আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ২৬৭৭ ভোট এবং শিবির সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ৩১০৬ ভোট।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোট গণনায় কিছু সময় বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ম্যানুয়াল ও মেশিন-দুই পদ্ধতিতে ফল যাচাই করে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। সব কেন্দ্রের ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
শীর্ষ তিন পদসহ অধিকাংশ সম্পাদকীয় পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল এগিয়ে থাকলেও পাঠাগার সম্পাদক ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে এখনো ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদগুলোর মধ্যেও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থী ভালো অবস্থানে আছেন।
এদিকে শীর্ষ তিন পদসহ অধিকাংশ সম্পাদকীয় পদে শিবির সমর্থিত প্যানেল এগিয়ে থাকলেও পাঠাগার সম্পাদক ও সংস্কৃতি সম্পাদক-এই দুই পদে এখনো ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। নির্বাহী সদস্য পদগুলোর মধ্যেও ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থী ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা পর্যন্ত ভিপি পদে এগিয়ে ছিলেন ছাত্রদলের প্রার্থী একেএম রাকিব। নতুন তিনটি কেন্দ্রের ফল যুক্ত হওয়ার পর নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায় এই হিসাব।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জকসু নির্বাচন শুরু হয়ে প্রাথমিকভাবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে। পরে সময় বাড়িয়ে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সব ভোটারকে ভোেট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ভোট গণনায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গণনা স্থগিত থাকে। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রথম দফায় চারটি কেন্দ্রের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে ফল ঘোষণা শুরু হয়।

