Logo

ক্যাম্পাস

বিশেষ আয়োজন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

পর্ব-৫ : গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Icon

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে সরব ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী ও প্রথমবারের ভোটাররা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা, নারীর অংশগ্রহণ এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা— সবকিছু মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন ও সচেতন। তরুণদের কাছে ভোট কেবল একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়; বরং এটি পরিবর্তনের হাতিয়ার। আশার পাশাপাশি রয়েছে দুশ্চিন্তা ও সংশয়ও। এসব বাস্তবতা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের মতামত তুলে ধরেছেন মো. রাসেল হোসেন

নির্বাচন মানে ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়া

নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়— নির্বাচন মানে ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়া। একজন তরুণ নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি। নির্বাচন শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। 

আমি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে নেতৃত্ব আসবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, রাজনীতি হবে দেশকেন্দ্রিক এবং উন্নয়ন মানে হবে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। দল নয়, দেশ আগে— এই চেতনাই আমাদের এগিয়ে নিতে পারে। 

ভোট দেওয়ার আগে আমাদের ভাবতে হবে, যাকে ভোট দিচ্ছি তিনি কি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবছেন? যোগ্য নেতৃত্ব, সুশাসন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

মো. হাসিব মিয়া

অর্থনীতি বিভাগ।

আস্থাহীনতা গণতন্ত্রের বড় চ্যালেঞ্জ

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশ একটি জটিল রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আস্থায় ভাটা পড়েছে। বিচারহীনতা, খুন, গুপ্ত হামলা, মব সৃষ্টি ও অরাজকতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনাস্থা বাড়িয়ে তুলেছে।

গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা থেকে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে— এমন অনুভূতিই এখন স্পষ্ট। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও যেন ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।

এই বাস্তবতায় একটি নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য হলেও, তরুণদের আস্থাহীনতা গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন সহিংসতামুক্ত রাখা রাষ্ট্রের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের সমান দায়িত্ব। আমরা চাই জনগণকেন্দ্রিক, নীতিনির্ভর ও স্বচ্ছ রাজনীতি।

মাহদী হাসান তাহমিদ

শিক্ষার্থী, কৃষি বিভাগ।

প্রথম ভোট, বড় প্রত্যাশা

দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একজন প্রথমবারের ভোটার হিসেবে আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি— কবে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব।

আমি চাই এমন নেতৃত্ব, যারা ইনসাফভিত্তিক, বৈষম্যমুক্ত ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলবে। ক্ষমতা নয়, রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের ন্যায়বিচার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। তরুণদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থান, যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত ইশতেহার, বাকস্বাধীনতা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলেই তরুণদের আস্থা অর্জন সম্ভব।

এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়— এটি আমাদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ।

সালমান ফারসি

শিক্ষার্থী, গোবিপ্রবি।

সংস্কার, নির্বাচন ও জনআস্থা

বর্তমান রাজনীতিতে নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জনআস্থা— এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাই–আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্যের প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে দলগুলোর সমন্বয়হীনতা সেই পথকে কঠিন করে তুলেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করছে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ওপর। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি দূর না হওয়ায় জননিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবুও আশা করা যায়, একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে শক্তিশালী সরকার ও কার্যকর বিরোধী দল গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেবে।

মো. আরাফাত খান

সেশন: ২০২১–২২

ফার্মেসি বিভাগ 

নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রতি প্রত্যাশা

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, জামায়াত–এনসিপি জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে। তবে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, জনগণের প্রত্যাশা একটাই— দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, দুর্নীতি ও অপরাধ দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা।

একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী সরকারই পারে এই সংকটময় সময় অতিক্রম করে একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

ফুয়াদ আল মাহদী

সেশন: ২০২১–২২

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ 

তরুণ সমাজ কেবল সংখ্যাগত শক্তি নয়, বরং গুণগত পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরুণ প্রজন্ম সবসময়ই পরিবর্তনের অগ্রদূত। জাতীয় যেকোনো সংকটে তারুণ্যই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষাও গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।

আজকের তরুণ সমাজ কেবল সংখ্যাগত শক্তি নয়, বরং গুণগত পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার। তারা একটি মেধাভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামোর স্বপ্ন দেখে—যেখানে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, রাষ্ট্র পরিচালনা হবে সবার জন্য সমান ও ন্যায্যভাবে।

ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়; বরং নাগরিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সক্রিয় অংশগ্রহণ। তারা পেশিশক্তিমুক্ত, যুক্তিনির্ভর ও দেশপ্রেমিক রাজনীতি প্রত্যাশা করে।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বেকারত্বের প্রেক্ষাপটে তরুণরা চায় টেকসই কর্মসংস্থান, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। রাজনৈতিক ইশতেহারে তারা বাস্তবসম্মত ও টেকসই ভবিষ্যতের রূপরেখা দেখতে চায়।

পরিশেষে, তারুণ্যের এই প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কোনো টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। তাই আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের কণ্ঠস্বরকে নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনা সময়ের জরুরি দাবি।

তারিন আলম

শিক্ষাবর্ষ: ২০২২–২০২৩

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ 

রাসেল/এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

গোবিপ্রবি সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর