Logo

রাজধানী

ভোটের ছুটিতে ঈদের মতো ভিড়, রিকুইজিশনে বাস সংকট

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০২

ভোটের ছুটিতে ঈদের মতো ভিড়, রিকুইজিশনে বাস সংকট

ছবি: সংগৃহীত

ভোট দিতে লাখো মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে যাচ্ছেন। ঈদযাত্রার মতো যাত্রীর ঢল নেমেছে রাজধানীর বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনে। নির্বাচনী দায়িত্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক বাস রিকুইজিশন করায় যানবাহনের তীব্র সংকটে মঙ্গলবার দিনভর ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

নির্বাচন উপলক্ষে এবার তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ছিল শেষ কর্মদিবস। তবে দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। একদিকে বাসের সংকট, অন্যদিকে যাত্রীর ঢল—এই সুযোগে অনেক বাসে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করা হয়েছে।

ট্রেনে বাড়তি ভাড়া না থাকলেও ভিড় ছিল চরম। গত সোমবার রাত থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় ছেড়ে যাওয়া ময়মনসিংহ-নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসেও একই চিত্র দেখা যায়। প্রায় সব ট্রেনেই শত শত যাত্রী ছাদে উঠে পড়েন। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও যাত্রীদের ঠেকানো যায়নি।

দুপুরে জামালপুরগামী ট্রেনের টিকিট ১০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। জামালপুর মেলানন্দ এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘চার দিনের ছুটি দিয়েছে। ভোটার হওয়ার পর কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তাই পরিবার নিয়ে বাড়ি যেতে এসেছি। কিন্তু ১০ মিনিটের মধ্যেই কাউন্টার থেকে জানানো হলো টিকিট নেই।’

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, ইউনাইটেড পরিবহন ও বিলাস পরিবহনের সামনে কয়েক হাজার যাত্রী টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ আট ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন। ভিড় সামাল দিতে কাউন্টার থেকে মাইকে বারবার যাত্রীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখা যায়।

মাইকে জানানো হয়, যানজটের কারণে গাজীপুর থেকে অনেক বাস ঢাকায় ফিরতে পারছে না। পাশাপাশি অধিকাংশ বাস নির্বাচন ডিউটির জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে রিকুইজিশন করা হয়েছে। ফলে যাত্রী পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত বাস নেই। যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া বা ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

মহাখালী টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের গন্তব্য ছিল ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা। মাহমুদ আলম নামে এক তরুণ জানান, তিনি জামালপুর-৩ আসনের ভোটার। ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছেন।

আগের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে ভোটার হয়েছি। কিন্তু জীবনে কখনো ভোট দিইনি। এবার প্রথম ভোট দেব। এজন্যই যাচ্ছি। কিন্তু ছয় ঘণ্টা ধরে বসে আছি, বাস পাচ্ছি না।’

এ সময় ইউনাইটেড পরিবহনের কাউন্টার থেকে মাইকে ঘোষণা আসে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত একটি বাস যাবে। যারা দাঁড়িয়ে যেতে রাজি, তারা চাইলে ওই বাসে উঠতে পারবেন। এ ঘোষণার পর ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ব্যাগ-বোচকা নিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। নির্ধারিত ৩২০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়। এরপরও যাত্রীরা আসন পাননি; দাঁড়িয়ে যাতায়াতের জন্যও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়।

তবু বাসে উঠতে পারেননি শামীম ইসলাম নামের এক যুবক। তিনি বলেন, ‘দাঁড়িয়ে যেতে রাজি ছিলাম। কিন্তু বাসের ভেতরে পা ফেলার জায়গা নেই। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে এই অবস্থায় যাওয়া সম্ভব না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সরকার বারবার ভোটারদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু গ্রামে ফেরার কোনো ব্যবস্থাই করেনি। তাহলে লাখ লাখ মানুষ কীভাবে ভোট দেবে?’

এই সংকটের দায় স্বীকার করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এত মানুষ গ্রামে যাবেন, তা ভাবনায় ছিল না। তাই প্রস্তুতিও ছিল না। এখন ভোগান্তি কমাতে চেষ্টা চলছে। ঈদের মতো যাত্রীর ঢল নামবে, এত মানুষ ভোট দিতে যাবেন—এটা ভাবতেই পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেল থেকে সমাধানের চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা টার্মিনালে যাচ্ছেন। রিকুইজিশন করা বাসগুলো নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনে দেওয়া যায় কি না, সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেউ যেন বাড়তি ভাড়া নিতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

শুধু মহাখালী নয়, গাবতলী বাস টার্মিনালেও যাত্রীর ঢল নামে। এখানেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ভোটার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘নির্বাচনে সব দলকে সহনশীল আচরণ করতে হবে। যে দলই জিতুক, পরাজিত দলকে তা মেনে নিতে হবে।’

এদিকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে মানিকগঞ্জগামী সেলফি পরিবহনকে ১৮৮ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে ৪০০ টাকা নেওয়ায় ৫০ হাজার টাকা এবং জলঢাকাগামী রানী পরিবহনকে ৯৫০ টাকার স্থলে ১২০০ টাকা ভাড়া আদায়ের জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ভোটের হাওয়া

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর