মামলার ভয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগের ঘোষণা
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৫
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে পদত্যাগ করেছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা। ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে তিনি দলীয় পদসহ রাজনীতির সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দিলেও স্থানীয়দের দাবিদ; মামলার ভয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরপাকড় এড়ানো এবং বালু ব্যবসা নির্বিঘ্ন রাখতেই এই কৌশল নিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগী ওই নেতার নাম মো. ইব্রাহীম হোসেন। তিনি ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ইব্রাহীম ওই ইউনিয়নের নাংলু গ্রামের মৃত সহিমুদ্দিন আকন্দের ছেলে।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় ‘দৈনিক করতোয়া’ পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে ইব্রাহীম হোসেন তার পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। বিজ্ঞাপনের রেফারেন্স নম্বর পি-৪৭৫৫/২৫।
বিজ্ঞাপনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘পারিবারিক কারণে তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেছেন। ঘোষণার দিন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার আর কোনও সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকবে না।’ বিজ্ঞাপনটিতে তিনি নিজ হাতে স্বাক্ষর করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল থেকে তিনি বাঙালি নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের সময় ড্রেজিং করা বালু সরকারি নিলামের মাধ্যমে বিক্রির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নিলামকৃত বালু শেষ হয়ে গেলেও তার বিক্রি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে তিনি বাঙালি নদীর জেগে ওঠা চর কেটে বালু বিক্রি করছেন বলে স্থানীয় জনসাধারণ ও জমির মালিকরা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, ভবিষ্যতে ঝামেলা ছাড়া বালু ব্যবসা চালিয়ে যেতেই তিনি পদত্যাগের এই পথ বেছে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা আল আমিন বলেন, ‘ইব্রাহীম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তার হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণায় নিমগাছি ইউনিয়নসহ ধুনট উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’
নিমগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলে খোদা তুহিন বলেন, ‘বিষয়টি এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে পরে জানানো সম্ভব হবে।’
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে মো. ইব্রাহীম হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিনহাজ উদ্দিন/আইএইচ

