ফরিদপুর-১ আসন : জামায়াত প্রার্থীর নগদ অর্থ ও স্থাবর সম্পদে নজরকাড়া অবস্থান
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩০
ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ড. মো. ইলিয়াস মোল্যা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ড. মো. ইলিয়াস মোল্যা। নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, দীর্ঘ কর্মজীবনের সঞ্চয়, ব্যাংক আমানত এবং স্থাবর সম্পদে তার ও তার পরিবারের আর্থিক অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।
হলফনামা অনুযায়ী, শিক্ষাবিদ ড. ইলিয়াস মোল্যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অর্থনৈতিকভাবে তার অবস্থানও চিত্তাকর্ষক। শিক্ষকতা ও ভাতা বাবদ তিনি বছরে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৬১ টাকা আয় করেন। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয় ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭১৫ টাকা। বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। নির্ভরশীলদের আয়ও প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
আর্থিক স্থিতির ক্ষেত্রে ড. ইলিয়াস মোল্যার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ ও ব্যাংক জমা রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, তার নিজের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৮০ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে, যার বড় অংশই ইসলামী ব্যাংক ও এনআরবিআইসি ব্যাংকে। এছাড়া তার নামে ৫৪ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। তার স্ত্রীর নামেও প্রায় ২৯ লাখ টাকার ব্যাংক আমানত এবং সাড়ে ৫ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে।
স্থাবর সম্পদের তালিকায় সাভারের জাহাঙ্গীরনগর কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি এবং ফরিদপুরের নিজ এলাকায় তার অকৃষি জমি ও ভবন রয়েছে। হলফনামায় এসব স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তার ২৪ লাখ টাকার একটি গাড়ি রয়েছে। স্বর্ণালঙ্কারের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নিজের ২৫ ভরি এবং স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তার নির্ভেজাল আইনি রেকর্ড। হলফনামায় তিনি ঘোষণা করেছেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বা অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফরিদপুর-১ আসনে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে, যা ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে।
মিয়া রাকিবুল/এমবি

