চাঁদপুরে বিএনপি প্রার্থীদের অধিকাংশই কোটিপতি, জামায়াতের লাখপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৯
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের অধিকাংশই কোটিপতি। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা লাখপতি। বিএনপির এক প্রার্থীর নগদ টাকা কম দেখানো হলেও কোটি টাকার গাড়ি রয়েছে তার। সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের টকশো থেকে বার্ষিক আয় দেড় লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।
চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন পেশায় রাজনীতিক। তিনি নগদ দুই কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৩৬ টাকার মালিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ টাকা এবং টকশো থেকে আয় দেড় লাখ টাকা। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র আছে দুটি। গত বছর তার নামে ১৯টি মামলা ছিল, যেখান থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুর আহমদ পেশায় শিক্ষক। তিনি নগদ ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৫২৯ টাকার মালিক। শিক্ষকতা থেকে তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি নগদ এক কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮০ টাকার মালিক। তার আগ্নেয়াস্ত্র আছে একটি। একটি গাড়ি (লাইসেন্সকৃত) রয়েছে, যার মূল্য ৯৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল মোবিন পেশায় চিকিৎসক। তিনি নগদ ১৬ লাখ ৬২ হাজার ২৮০ টাকার মালিক। তার আয়ের উৎস বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা সেবা। তার আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ পেশায় ব্যবসায়ী। গত বছর তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা ছিল, সবকটি থেকেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তার নগদ টাকা এক কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮৭ টাকা। আয়ের উৎস ব্যবসা, স্ত্রীর আয় ও বাণিজ্যিক ভাড়া। তার কাছে একটি পিস্তল ও একটি শটগানসহ মোট দুটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। একটি গাড়ি আছে, যা অধিগ্রহণের সময় মূল্য ছিল ১৪ লাখ টাকা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া পেশায় আইনজীবী। তিনি নগদ ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৭ টাকার মালিক। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশিদ পেশায় ব্যবসায়ী। তার নগদ সম্পদ ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮২ টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তার একটি টয়োটা ক্রাউন (মূল্য ৩১ লাখ), একটি ল্যান্ডক্রুজার জিপ (মূল্য ৬৭ লাখ) ও একটি মাইক্রোবাস (মূল্য ২৭ লাখ টাকা) রয়েছে।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী পেশায় শিক্ষক। তার নগদ টাকা ২০ হাজার। একটি গাড়ি আছে, যার মূল্য এক লাখ ১০ হাজার টাকা। তারও আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এম. এ. হান্নান। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তার নগদ টাকা ছয় কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ১২২ টাকা। একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৪ টাকা।
চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মমিনুল হক পেশায় ব্যবসায়ী। গত বছরে তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা ছিল। এর মধ্যে দুটি থেকে অব্যাহতি এবং দুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার নগদ টাকা ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯২০ টাকা। একটি মোটরসাইকেল আছে, যার মূল্য দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সম্পাদক মো. আবুল হোসাইন পেশায় শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে গত বছরে ১৩টি মামলা ছিল, যেখান থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তার নগদ এক লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর নগদ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। তার কোনো যানবাহন বা আগ্নেয়াস্ত্র নেই।
আল-আমিন ভূঁইয়া/এআরএস

