শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের নির্দেশে জামায়াত কর্মী জামালকে হত্যা : পুলিশ
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৯
গ্রেফতার নাজিম উদ্দিন প্রকাশ বাইট্টা নাজিম
চট্টগ্রামে জামায়াত কর্মী জামাল উদ্দিন (৪৫) নিহতের ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ওরফে বড় সাজ্জাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংস্থাটি বলছে, শহরে পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তার অনুসারীদের হাতে খুন হন জামাল উদ্দিন।
এর আগে, জামালকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছেন বড় সাজ্জাদ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাজিম উদ্দিন প্রকাশ বাইট্টা নাজিমকে (৫২) গ্রেফতারের পর এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতার নাজিম বুধবার দুপুরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার বিরুদ্ধে খুন, দস্যুতা ও অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ হত্যায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিল্পাঞ্চল (ডিবি) মো. রাসেল বলেন, ‘গত ১০ জানুয়ারি রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং শাহনগর এলাকায় দিঘিরপাড়ে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে ঝুট ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গী নাছির উদ্দিন (৪৫) গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১১টি পিস্তলের খোসা উদ্ধারসহ অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে তদন্ত শুরু করে।’
তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হত্যায় নিহত জামালের বন্ধু নাজিমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার র্যাবের সহায়তায় অভিযুক্ত নাজিমকে নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ফটিকছড়ি থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম জানান, হত্যাকারীরা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেও তাদের সঙ্গে নিহত জামালের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। ওই দিন রাতেই মোটরসাইকেলটি নিজের গ্রামের বাড়ি লেলাং কাবিল মিস্ত্রির বাড়িতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রাম শহরে আত্মগোপনে চলে যান। পরে তার দেওয়া তথ্যে অভিযান পরিচালনা করে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘গত বছর চট্টগ্রাম শহরের একটি পোশাক কারখানার ঝুট কেনার টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সঙ্গে নিহত জামালের বিরোধ শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ তাকে বিভিন্ন সময়ে তার সহযোগীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। এই হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত নাজিম ফোন করে সাজ্জাদ গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের শাহনগর দিঘীরপাড়ে ডেকে আনেন। মোটরসাইকেলযোগে তিন জন এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে জামালকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। গুলিতে তার সঙ্গী নাছিরও গুরুতর আহত হন। গ্রেফতারকৃত নাজিম বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’
এএস/

