১২ গ্রামের স্বপ্নপূরণ : দুর্গম নোয়াপতংয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ৮০ মিটার সেতু
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বান্দরবান সদর উপজেলার দুর্গম নোয়াপতং ইউনিয়নের নোয়াপতং খালের ওপর নির্মিত ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটির কারণে অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সরেজমিনে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াপতং খাল পারাপার ছিল স্থানীয়দের জন্য বড় একটি সংকট। বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পেলে নৌকা বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হতো। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হতো। বর্ষায় খাল পার হতে গিয়ে অতীতে বেশ কয়েকজন প্রাণও হারিয়েছেন।
নতুন সেতু নির্মাণের ফলে এখন সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিতে পারবেন, যা কৃষি অর্থনীতিতে গতি আনবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে, ফলে ঝরে পড়ার হার কমানো সম্ভব হবে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও রোগীদের পরিবহনে আর ঝুঁকি নিতে হবে না। এ ছাড়া যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়বে।
-697467076f0a5.jpg)
নোয়াপতংয়ের বাসিন্দা চনুমং মারমা বলেন, ‘এই ব্রিজ শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রতিফলন। সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এটি এলাকার টেকসই উন্নয়নের মাইলফলক হবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, ‘সেতু না থাকায় বহু বছর ধরে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতেন। এ ব্রিজের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এবং জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মেসার্স মারমা এন্টারপ্রাইজের কাছে ব্রিজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে এপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ করে ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
এআরএস

