লক্ষ্মীপুরে টেন্ডার ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে টেন্ডার ছাড়াই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন বরাদ্দ পাওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে কয়েকটি কেন্দ্রে এসব ক্যামেরা স্থাপন করায় যন্ত্রপাতির মান ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসন বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে টেন্ডারের মাধ্যমে এসব ক্যামেরা স্থাপন করার কথা। কিন্তু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে কোনো ধরনের বরাদ্দ বা টেন্ডার ছাড়াই সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ফেলা হয়েছে।
সরেজমিনে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পুরো কেন্দ্রটি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অথচ সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওই সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য কোনো বরাদ্দ উপজেলা প্রশাসনের হাতে পৌঁছায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সদর উপজেলার ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৩৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দের একটি চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা প্রশাসনের হাতে পৌঁছায়। ওই চিঠিতে প্রতিটি কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠির শর্তাবলিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫’সহ যাবতীয় আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রশাসন এই বরাদ্দ আসার আগেই নিয়মবহির্ভূতভাবে টেন্ডার ছাড়াই কয়েকটি কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন করে রেখেছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যথোয়াইপ্রু মারমা সাংবাদিকদের জানান, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। সেই জরুরি তাগিদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্রে আগেভাগেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার পর তা নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়ার আগে কাজ শুরু করার সুযোগ না থাকলেও প্রশাসনের এমন তড়িঘড়ি উদ্যোগে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এমএইচএস

