Logo

সারাদেশ

ফরিদপুর-১ আসনে পেশিশক্তি ও কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩১

ফরিদপুর-১ আসনে পেশিশক্তি ও কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনে পেশিশক্তি ও কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খানের বিরুদ্ধে। বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ও অর্থের প্রভাব বিস্তার করে ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলানো হচ্ছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে আবুল বাশার খানের অনুসারী মাহবুব হাসান সজিবকে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টাকালে স্থানীয়রা বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ আসনের বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ও অর্থের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার ২০০ কোটি টাকার ঋণগ্রস্ত এবং তার অনেক পাওনাদার রয়েছে।’

বুধবার বিকেলে মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নে আবুল বাশারের দুই সমর্থক রবিন ও আরিফ ‘নগদ টাকা বিতরণ ও ব্যানার টাঙানো’কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়রা রবিন ও আরিফকে গণধোলাই দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তবে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি।’

অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া মাহবুব হাসান সজিবকে স্থানীয়ভাবে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। 

সেনা ও পুলিশ সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি ও প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই তিনি অবৈধ অস্ত্র বহন করছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচনে কালো টাকার বিস্তার ঘটবে না, তবে সেটা থেমে নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছি— কেউ টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গেলে তাদের প্রতিহত করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসন এখনই যেন অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরালো করে। না হলে আবুল বাশারদের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনের দিন অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়াবে।’

এনসিপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুরও অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খান বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন। তার দাবি, টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।

বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-১ আসনে, বিশেষ করে মধুখালী উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বাশার কালো টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে লোক ভাড়া করে এনে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু মিডিয়াকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। 

নাসিরুল ইসলামের দাবি, জামালপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের পক্ষে মধুখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘোরাফেরা করছে, যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে।

এমবি 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর