ভালুকায় নির্বাচনী সহিংসতা
বিএনপির প্রার্থীসহ দেড় হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চার মামলা
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৪
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ দেড় হাজারের বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলোতে উভয় পক্ষের কয়েক শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে আতিকুল ইসলাম ও আমান উল্লাহ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৩৩ ও ৩৪-এ ১৯১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বাটাজোড় এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের (হরিণ প্রতীক) নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন বাচ্চুর নির্দেশে তার কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গণসংযোগে বাধা দেন। এতে কয়েকজন আহত হন এবং একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
একই দিন সন্ধ্যায় সিডস্টোর বাজার এলাকায় যুবদল নেতা শামীম আহমেদের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় তিনজন আহত হন এবং সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একই ঘটনায় এর আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ২১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও প্রায় ৯ শত জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ ও রফিক উদ্দিন রফিক বাদী হয়ে সোমবার ও মঙ্গলবার (২৬ ও ২৭ জানুয়ারি) রাতে মামলা নম্বর ৩১ ও ৩২ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ভালুকা পৌর সদর, কানার মার্কেট, বাটাজোড় বাজার ও হবিরবাড়ি এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনসংক্রান্ত সহিংসতায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা রুজু করা হয়েছে। বিএনপির দায়ের করা একটি মামলার আসামি নাজিম মেম্বারকে দলীয় লোকজন আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
রোমান আহমেদ নকিব/এসএসকে/

