Logo

সারাদেশ

বাসের ধাক্কায় ছেলের মৃত্যুর ১ সপ্তাহ পর প্রাণ গেল বাবারও

Icon

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৮

বাসের ধাক্কায় ছেলের মৃত্যুর ১ সপ্তাহ পর প্রাণ গেল বাবারও

হায়দার আলী (৭০) (বাঁয়ে) এবং শাহজালাল হাওলাদার (৪৭) (ডানে)।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভাগনের বিয়ের বরযাত্রী হতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর ঠিক সাত দিনের মাথায় প্রাণ হারালেন বাবাও। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৭০ বছর বয়সী হায়দার আলী। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তার ছেলে শাহজালাল হাওলাদার (৪৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে করে ভাগনের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন শাহজালাল ও তার বাবা হায়দার আলী। পথে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের উমেদপুর কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘হানিফ পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে বাবা-ছেলে দুজনেই গুরুতর আহত হন। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শাহজালাল হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, সংকটাপন্ন অবস্থায় হায়দার আলীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়। সেখানে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মানলেন তিনি।

নিহত শাহজালাল হাওলাদার লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই পরিবারের দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ঘাতক বাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়নি।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিবার চাইলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাবা ও ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

নিহত সড়ক দুর্ঘটনা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর