জনতার মুখোমুখি চাঁদপুর-৩ আসনের ৫ প্রার্থী
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৪
ছবি : বাংলাদেশের খবর
‘একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’—এই স্লোগানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটারদের মুখোমুখি হয়েছেন চাঁদপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন দলের পাঁচ প্রার্থী।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় শহরের বাবুরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) আয়োজনে এ 'প্রার্থী-ভোটার সংলাপ' অনুষ্ঠিত হয়।
উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।
স্বাগত বক্তব্যে সুজন চাঁদপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রথাগত ধারাবাহিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’
আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা। তিনি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
চাঁদপুর-৩ আসন কেমন হবে, প্রার্থীরা কী ভাবছেন এবং ভোটারদের প্রত্যাশা কী—এসব বিষয়ে তিন ভোটার প্রশ্ন তোলেন। তাদের প্রশ্নের উত্তর ও নিজস্ব পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াত ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া, ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এএইচএম আহসান উল্লাহ ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন উপস্থিত থাকলেও বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন করায় বক্তব্য দেননি।
নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও ভোটারদের প্রত্যাশা নিয়ে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, মাওলানা আব্দুর রউফ, জসিম উদ্দিন মাল ও সমাজকর্মী রোজিনা আফরোজ মুক্তা।
তারা চাঁদপুরের নদীভাঙন রোধ, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক চার লেন করা, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের স্টেশন চালু করা, চাঁদপুর-কক্সবাজার ট্রেন চালু, মোলহেড স্টেশনকে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা, যানজট নিরসন, মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা ইত্যাদি দাবি তোলেন।
প্রার্থীদের বক্তব্য শুরুর আগে সুজনের অঙ্গীকারনামার সারাংশ তুলে ধরেন সুজন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী সৈয়দ নাছির উদ্দিন।
প্রার্থীদের বক্তব্যে এএইচএম আহসান উল্লাহ বলেন, ‘কোরআন-সুন্নার আলোকে রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখব। বিজয়ী না হলেও বিজয়ীর সঙ্গে থেকে উন্নয়ন কাজ করব।’
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘সুজনের অঙ্গীকারনামায় জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ নেই। এটি সংশোধন করে দিলে স্বাক্ষর করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এককভাবে সংসদ সদস্য বড় উন্নয়ন করতে পারেন না। সবার অংশগ্রহণে চাঁদপুরের উন্নয়ন চাই। দলীয় নেতৃত্বের ঘোষণা বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব।’
জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ভোটে প্রতিযোগিতা হবে, তবে জনে জনে নয়। নিরাপদ ভোটার পরিবেশ চাই। চাঁদপুরের জুটমিল চালু ও চরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক জোন করলে বেকারত্ব দূর হবে।’
মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘নির্বাচিত হলে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করব। নদীভাঙন রোধ, হাসপাতাল সম্প্রসারণ, মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেব।’
অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক ভোটার আহসান উল্লাহকে প্রশ্ন করেন, তিনি নির্বাচিত হলে ওসমান হাদির বিচার করবেন কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মেই এর বিচার হবে।’
ফরিদ আহমেদকে অন্ধদের নিয়ে পরিকল্পনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’
একই প্রার্থীকে চাঁদপুরে আগস্টের পরের রাজনৈতিক হামলার ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘মব সন্ত্রাস করতে দেওয়া হবে না।’
প্রার্থী শাহজাহান মিয়াকে আল-আমিন একাডেমিতে তার প্রচার সামগ্রী রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরিত্যক্ত ঘরে রাখা হয়েছিল, ইস্যুটি সমাধান হয়েছে।’
জুলাই আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের শহীদের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির বলেছেন, ওই আন্দোলনের সব শহীদই দেশের বীর সন্তান, দলীয় পরিচয়ে চিহ্নিত হবেন না।’
অনুষ্ঠানে সুজন চাঁদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলম পলাশ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. লতিফ ও জেলা কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতি মোশাররফ হোসেনের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
আলআমিন ভূঁইয়া/এআরএস

