বাগেরহাটের কচুয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ৫
জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:০৬
বাগেরহাটের কচুয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় ঘোড়া প্রতিক ও ধানের শীষ প্রতিকের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ধোপাবাড়ি পোল নামকস্থানে ধানের শীষের প্রচারণা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ঘোড়া প্রতিকের সমর্থকদের হামলায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮)সহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কচুয়া উপজেলার গোপালপুরে ঘোড়া প্রতিক ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর ও লুটের অভিযোগ রয়েছে ধানের শীষ প্রতিকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধানের শীষ প্রতিকের সমর্থক বিপ্লব এবং ঘোড়া প্রতিকের সরওয়ার শিকদার আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কচুয়া থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আহত মো. জাহাঙ্গির হোসেন (৪৮) জানান, তিনি বাধাল বাজার থেকে গোপালপুরের দিকে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। একই মোটরসাইকেলে তার সঙ্গে আরও দুইজন ছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় ঘোড়া প্রতিকের সমর্থক রিয়াদ ও মুরাদ শেখের নেতৃত্বে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন এসে তাদের গতিরোধ করে। এরপর গালাগালি শুরু করে এবং মোটা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে জাঙ্গির হোসেনসহ মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই আহত হন।
তবে রিয়াদ ও মুরাদের বিরুদ্ধে করা জাহাঙ্গীরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘোড়া প্রতিকের নেতারা।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে প্রচারণায় বাঁধা, অফিস দখল, কর্মীদের মারধরসহ নানা অভিযোগ এনে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের স্বতন্ত্র পার্থী এমএএইচ সেলেমের ঘোড়া প্রতিকের নির্বাচনী সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান টুটুল।
তিনি বলেন, বাগেরহাটের ৪টি আসনে যাদের বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদের মেনে নিতে পারেনি। যার কারণে আমরা ঘোড়া প্রতিকের নির্বাচন করছি। মনের কষ্টে আমরা বিএনপির বিরুদ্ধাচারণ করছি। কিন্তু নির্বাচনের শুরু থেকেই ধানের শীষের কিছু লোকজন আমাদের প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছে। খানপুর, বিষ্ণুপুর, গোটাপাড়া, ষাটগম্বুজসহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মীদের বাঁধা দিচ্ছে। কচুয়া তো সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। কচুয়ায় আমাদের রিয়াদ ও মুরাদ নামের দুই কর্মীর মোটর সাইকেল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি, যাত্রাপুর ও গোপালপুরে আমাদের অফিস ভাংচুর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুনেছি বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আনা হয়েছে। তারা বাগেরহাটে অবস্থান করছে। যেকোনো সময় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা রিটার্নীং কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে খুলনা বিভাগীয় ডিআইজি এবং বাগেরহাট পুলিশের পুরো ইউনিটকে পরিবর্তন করার দাবি জানান বিএনপির সাবেক এই নেতা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ডা. জাবেদ হোসেন জুয়েল বলেন, আমরা আমাদের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। কাউকে বাঁধা দেওয়ার প্রশ্ন আসে না। বরং ঘোড়া মার্কার লোকজন গোটাপাড়া, বিষ্ণুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের ব্যানার পোস্টার একাধিকবার ছিড়ে ফেলেছে। বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীকে হুমকি দিচ্ছে। এসব ঘটনায় আমরা ৫টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি রিটানিং কর্মকর্তার কাছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোপালপুরের ঘটনায় আমরা উভয় পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, কিছু পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো ইলেকশন ইনকয়ারি কমিটিতে পাঠিয়েছি। আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সেখানে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ আবু তালেব/এসএসকে

