ভালুকায় গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৩
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নিজ বসতঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি : বাংলাদেশের খবর
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নিজ বসতঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকার গাংগাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম রাহিমা খাতুন (৩৬)। তিনি ওই এলাকার বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। তাদের এক মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১৬) ও এক ছেলে রাহাত (৭) রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রাহিমা খাতুন স্বামীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাজার করে বাড়িতে ফেরেন। রাত ৮টার দিকে তিনি ছেলে রাহাত ও মেয়ে সুমাইয়াকে খাবার খাইয়ে পাশের কক্ষে শুইয়ে দেন। স্বামী প্রতিদিন রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরেন বলে ঘরের দরজায় তালা না লাগিয়েই তিনি নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাহিমা খাতুনকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা মরদেহ সরানোর চেষ্টা করে। এ সময় বারান্দায় রাখা একটি সেলাই মেশিনে ধাক্কা লাগলে শব্দ হয়।
এতে নিহতের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন বাইরে এসে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘটনাস্থলে গিয়ে গলাকাটা অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। পরে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিহতের স্বামী বিল্লাল হোসেনকে জানানো হলে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন।
খবর পেয়ে রাতেই ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনোতোষ বিশ্বাস, ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রোববার সকালে পিবিআই ও সিআইডির ময়মনসিংহ অঞ্চলের একটি দলও ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত ও পরিদর্শন করে।
ভালুকা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. আবদুল মালেক জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
রোমান আহমেদ নকিব/এমবি

