Logo

সারাদেশ

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে সমর্থন দিলেন দোলন

Icon

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩০

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে সমর্থন দিলেন দোলন

ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করা এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে রুখে দেওয়ার লক্ষ্যে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা–বোয়ালমারী–মধুখালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দোলন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এবং ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।

দোলনের এই সমর্থন ফরিদপুরে ধানের শীষের পক্ষে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করবে এবং বিজয়কে সুনিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।

সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে আরিফুর রহমান দোলন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে। নীতির প্রশ্নে আমি কখনো আপস করিনি, করবও না।’ তিনি নাম উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেন, ‘যারা ইনসাফের কথা বলেন, তারাই অনেক সময় বে-ইনসাফি কাজ করেন।’

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বিজয়ী করাই সময়ের দাবি উল্লেখ করে দোলন বলেন, ‘এই বিবেচনায় আমি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম দোলনের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘ফরিদপুর-১ আসনের মানুষ গুণগত পরিবর্তন চায়। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সে লক্ষ্যেই কাজ করব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের বিরুদ্ধে সবাইকে একজোট হতে হবে। দেশের মানুষ একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। দোলনের এই সিদ্ধান্ত ফরিদপুরে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে এবং ধানের শীষের বিজয়কে আরও সুনিশ্চিত করবে।’

গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দোলন ৮৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়েছিলেন। প্রচলিত অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় নানা কারসাজির মাধ্যমে তাঁর বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২৯ ডিসেম্বর আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমীর কাছে দোলনের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাঁর স্ত্রী ডা. মাফরুহা রহমান। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে সবকিছু ঠিক থাকলেও পাঁচ হাজার ভোটারের তালিকায় দুজন ভোটারের তথ্যসংক্রান্ত ত্রুটির কথা উল্লেখ করে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।

সেদিন দোলন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যার বহিঃপ্রকাশ তাঁর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় দেখা গেছে।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে শুনানিতে দোলনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। পরে গত ২০ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত লটারিতে তিনি জাহাজ প্রতীক বরাদ্দ পান।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর দোলনের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন দেখা দিলে স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষ আবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বলে তাঁর অভিযোগ। এ সময় তাঁকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের প্রার্থিতা বহাল থাকলেও দোলনের প্রার্থিতা ঝুলে থাকে বলে তিনি দাবি করেন। ভোট গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে এই পরিস্থিতিতে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে শক্তিশালী করতে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেন।

দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় যুক্ত আরিফুর রহমান দোলন বর্তমানে দৈনিক ঢাকাটাইমস, টাকাটাইমস২৪ ডটকম ও সাপ্তাহিক এই সময়-এর সম্পাদক। তিনি আমাদের সময় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর উপসম্পাদক এবং প্রথম আলোর ডেপুটি চিফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাভিশন টেলিভিশনের নিউজ এডিটর হিসেবেও কাজ করেছেন।

প্রথম আলোয় প্রকাশিত দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও বিভিন্ন জেলায় গডফাদারদের দৌরাত্ম্য নিয়ে তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর প্রতিষ্ঠাতা উপসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অল্পদিনেই পত্রিকাটি প্রচারসংখ্যায় শীর্ষে উঠে আসে।

আরিফুর রহমান দোলন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য।

সমাজসেবা তাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য। তাঁর প্রপিতামহ কাঞ্চন মুন্সী আলফাডাঙ্গাসহ ফরিদপুর অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই ধারাবাহিকতায় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন দোলনও।

কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ফাউন্ডেশনের ব্যানারে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর