ফরিদপুর-১ আসনে ইতিহাস গড়লেন জামায়াতের ড. ইলিয়াস মোল্যা
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক খ্যাত ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা ইতিহাস গড়েছেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক খ্যাত ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা ইতিহাস গড়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে পরাজিত করে এ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তার বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রথমবার ফরিদপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য পেল।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যার জয় ফরিদপুর-১ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরের পর এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সব নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং ২০০৫ সালের আওয়ামী লীগবিহীন উপনির্বাচনে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর এমপি নির্বাচিত হন। শাহ জাফর এর আগে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেবারও ভোট বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ।
সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়েছেন।
অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা ১৯৫৫ সালে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কালপোহা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুল মজিদ মোল্যা ও মাতা সালেহা বেগম। দাম্পত্য জীবনে তার এক মেয়ে ও তিন ছেলেসন্তান রয়েছে।
তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে ড. ইলিয়াস মোল্যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ হিসেবে এলাকায় তার বিশেষ সুনাম রয়েছে।
জয়লাভের পর অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্যা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে মানুষের খেদমত করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমানতদারী ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। আমার কাছে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু কোনো বিভেদ নেই। সকলের একটাই পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।’
মিয়া রকিবুল/এমবি

