Logo

সারাদেশ

সোনারগাঁয়ে লেবুর হালি ১৬০ টাকা

Icon

মো. সজিব হোসেন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৩

সোনারগাঁয়ে লেবুর হালি ১৬০ টাকা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে না হতেই নিত্যপণ্যের বাজারে আকাশচুম্বী দামে নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতা-সাধারণের। তবে এবার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো লেবুর বাজার। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা কাঁচাবাজারে এক হালি লেবুর দাম পৌঁছেছে ১৬০ টাকায়, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার পুরোপুরি বাইরে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে লেবুর দাম ভিন্নতা থাকলেও অধিকাংশই সাধারণের নাগালের বাইরে। বড় সাইজের লেবু ১৬০ টাকা হালি (প্রতি পিস ৪০ টাকা), মাঝারি সাইজ ১৪০ টাকা হালি এবং ছোট সাইজ ৮০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, একটি লেবুর দামে এখন প্রায় এক কেজি মোটা চাল কেনা সম্ভব। এমন অস্বাভাবিক দামের কারণে অনেক ক্রেতাকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

লেবুর দাম বৃদ্ধির বিষয়ে মোগরাপাড়া বাজারের বিক্রেতা আল আমিন বলেন, ‘আমরা তো কিছুই করতে পারছি না। পাইকারি বাজারেই লেবুর দাম অনেক বেশি। আমাদের বেশি দামে কিনে আনতে হয়, তার ওপর পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে যায়। বেশি দামে কেনার কারণে আমরাও বাধ্য হয়ে বাড়তি মূল্যে বিক্রি করছি।’

বাজার করতে আসা রাজু আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতি বছর রমজান এলে লেবুর দাম আকাশচুম্বী হয়। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা যদি ১৪০-১৬০ টাকা দিয়ে এক হালি লেবু কিনি, তাহলে অন্যান্য বাজার করব কীভাবে?’

দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা এক প্রবাসী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘সৌদিতে রমজান উপলক্ষে সব পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। এই সিন্ডিকেট কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না?’

লেবুর বাজারের এই অস্থিরতা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বণিক জানান,‘"আমাদের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে। রমজান উপলক্ষে যেসব বাজারে চড়া দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, বিশেষ করে লেবুর মতো পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি হচ্ছে—এসব পয়েন্টে ভোক্তা অধিকারের বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও বাজার মনিটরিং কমিটির কঠোর হস্তক্ষেপ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে রমজানের বাকি দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে।

এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর