সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার না করার দাবি
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৬
আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৭
রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড বায়িং হাউজ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ)। সেই সঙ্গে বিদেশি বায়ারদের নিরাপদ ভ্রমণ ও দেশের গার্মেন্ট শিল্পের প্রতি তাদের আস্থা ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বায়িং হাউজ খাত বাঁচাতে বিজিবিএ’র এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।
রাজধানীর উত্তরায় বিজিবিএ কার্যালয়ে রোববার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ‘সংকটের মুখে দেশের তৈরি পোশাক খাত : অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বিজিবিএ প্রেসিডেন্ট মোফাজ্জল হোসেন পাভেল বলেন, ‘পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং এ যাত্রায় বায়িং হাউজ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৈশ্বিক মন্দা, অভ্যন্তরীণ নীতিগত সীমাবদ্ধতা এবং উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে গার্মেন্ট শিল্প আজ টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত।’
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার মূল্য হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে সুতার ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১২ জানুয়ারি যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি তৈরি পোশাক শিল্পকে ক্রমাগত সংকটমুখী করে তুলেছে। যার ফলে তৈরি পোশাক শিল্প একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন হয়েছে। সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ডেড ওয়্যারহাউজের সুবিধা প্রত্যাহার না করে দেশীয় উৎপাদন শিল্প রক্ষার্থে তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সব স্টোকহোল্ডারের মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজিবিএ।
বিজিবিএ সভাপতি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশ ভ্রমণে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার অভাব ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবাহকে প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এবং উৎপাদনের চাকা চলমান রাখতে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, মব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিদেশি বায়াররা নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। এ কারণে ২০২৬ সালের বহু অর্ডার মুভ হয়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় নির্বাচনি সময়েও শিল্প বান্ধব ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে বিজিবিএর পক্ষ থেকে।
মোফাজ্জল হোসেন পাভেল বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে অরাজকতা বিরাজ করছে। সময়মত L/C বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় ঋণের অভাবে সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে, যার ফলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ছে এবং সর্বপরিভাবে সাপ্লাই চেইনের বিলম্বের কারণে সঠিক সময় গার্মেন্ট পণ্য ডেলিভারি করা যাচ্ছে না; তার কারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদ্যোক্তাদের খরচ বাড়ছে অথচ ব্যাংকগুলো সুদও বাড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় পোশাক শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানিখাতে বিশেষ শিল্প সহায়তা এবং রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন ও কার্যকর প্রণোদনা ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবিএর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ পিন্টু বলেন, গত দেড় বছরে দেশে ১০ শতাংশ বায়িং হাউজ বন্ধ হয়ে গেছে। তদুপরি সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলে উৎপাদন খরচ ২০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। এতে তৈরি পোশাক খাত ও বায়িং হাউস খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার না করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে আপনারা গার্মেন্টস শিল্পের স্টেকহোল্ডার বিজিএমই, বিকিএমইএ, বিজিবিএর সঙ্গে বসুন। সমস্যা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবেন।
এসএসকে/

