সুতা আমদানিতে ‘অসম’ সুবিধা বন্ধের দাবি, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানা বন্ধের ঘোষণা
অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৬
প্রতিবেশী দেশ থেকে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় অস্বাভাবিক হারে সুতা আমদানির ফলে গভীর সংকটে পড়েছে দেশের টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাত। এই অসম প্রতিযোগিতা বন্ধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। দাবি আদায় না হলে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার কথা বলেছেন সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
গতকাল রোববার বিটিএমএ কার্যালয়ে স্পিনিং মিলগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, প্রতিবেশী দেশের সরকার তাদের স্পিনিং মিলগুলোকে বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিচ্ছে। ফলে তারা প্রতি কেজি সুতা বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ সেন্ট কম দামে রফতানি করতে পারছে। এই অসম প্রতিযোগিতার কারণে স্থানীয় শিল্পগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এবং অনেক কারখানা রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে।
বিটিএমএ জানায়, গত এক বছরে ভারত থেকে সুতা আমদানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩৭ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানানো হয়, এরই মধ্যে দেশের প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও ৫০টি কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের শিল্প ও বিপুল কর্মসংস্থান রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা বন্ড সুবিধার আওতামুক্ত রাখার দাবি জানান তারা। বিটিএমএ সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প ও বিনিয়োগ রক্ষা করবে। অন্যথায় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে কারখানা বন্ধের কর্মসূচি পালন করা হবে।
বৈঠকে বিটিএমএর পরিচালক মো. বাদশা মিয়া, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দারসহ বিভিন্ন টেক্সটাইল মিলের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআর/এমএন

