‘দেশে ১ লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায় সম্ভব’
শনিবার শুরু হচ্ছে চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১০
দেশে বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও যাকাত ফেয়ারের অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। ছবি : বাংলাদেশের খবর
দেশে বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা যাকাত সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও যাকাত ফেয়ারের অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। এ অর্থ সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) আয়োজিত চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবদুল মজিদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের মানুষের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে যাকাত একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। সঠিকভাবে যাকাত প্রদান মানে শুধু অভাবীদের সাময়িক সহায়তা নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা— যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে।
তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারকে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। অথচ দেশে এক লাখ কোটি টাকা যাকাত আদায়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিপুল অর্থ সঠিকভাবে আদায় করা গেলে দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। গৃহহীনতা ও চিকিৎসার অভাবে মানুষের মৃত্যু রোধ করাও সম্ভব হবে।
যাকাত ব্যবস্থাপনার বর্তমান চর্চার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি যাকাত আদায় হয়। এখনো শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের প্রবণতা বেশি। শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। বরং ভ্যানগাড়ি, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা উৎপাদনমুখী উদ্যোগে সহায়তা করলে টেকসই পরিবর্তন আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানান, চলতি বছরে সিজেডএমের যাকাত সংগ্রহের লক্ষ্য ৯০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মেধাবিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের সাড়ে ১৭ হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে ৩০ মাস মেয়াদি ‘জিনিয়াস’ উচ্চ বৃত্তি হিসেবে মাসে চার হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরও ৫০০ শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, সারাদেশে সিজেডএম পরিচালিত ৬০টির বেশি প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধসেবা দেওয়া হচ্ছে। ডায়ালাইসিস সেন্টারে মাসে ৬০ জন বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস সেবা পাচ্ছেন এবং ৩০ জন থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটি বহন করছে। পাশাপাশি ১৫টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পরিচালনা এবং সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষকে ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় যাকাত’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। ফেয়ারের উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন।
ফেয়ারে তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ‘Islamic Social Finance: A Roadmap for the Way Forward’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথি থাকবেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. খালিদ হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হাসান জিল্লুর রহমান।
বেলা আড়াইটায় নারীদের জন্য ‘নারীদের জন্য প্রশ্নোত্তর সেশন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বুয়েটের অধ্যাপক ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া। একই সময়ে অন্য হলে ‘চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানসমূহের অভিজ্ঞতা বিনিময় সেশন’ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ২০টি দেশি-বিদেশি বেসরকারি সামাজিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।
সবার জন্য উন্মুক্ত যাকাত ফেয়ারে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যাকাত ক্যালকুলেশন ও মাসআলা-মাসায়েল সংক্রান্ত সহায়তা দিতে থাকবে বিশেষ ডেস্ক। এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা আলেম ও গবেষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিজেডএমের নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক মুনাওয়ার মিসবাহ মঈন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব আরাস্তু খানসহ অন্যান্য অতিথিরা।
এসআইবি/এমবি

