সিরিয়ায় আইএস কারাগার ঘিরে সংঘর্ষ, মুক্তি পেতে পারেন শামীমা বেগম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩২
শামীমা বেগম/ ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নিয়ন্ত্রণাধীন কারাগারগুলো ঘিরে সহিংস লড়াই চলার মধ্যে সেখানে আটক থাকা শামীমা বেগমের মুক্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বর্তমানে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার আল-রোজ আটক শিবিরে বন্দি আছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শামীমার জন্ম যুক্তরাজ্যে। এক দশকের বেশি সময় আগে তিনি লন্ডন থেকে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব হারান। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন বলেও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
কারাগার থেকে ২৬ বছর বয়সী শামীমা মুক্তি পেলে যুক্তরাজ্যের সরকারকে ফের আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে। কারণ, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব বাতিলের পর থেকে তাঁর আইনজীবীরা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে মামলা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, প্ররোচনার মাধ্যমে শামীমাকে সিরিয়ায় পাচার করা হয়েছিল। তাই তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যুক্তিযুক্ত হয়নি।
সিরিয়ায় বর্তমানে অস্থায়ী কারাগার ও বন্দিশিবির মিলিয়ে ৯ হাজারের বেশি আইএস সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ৪০ হাজার নারী ও শিশু আটক আছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন যুক্তরাজ্যের নাগরিক। বন্দিশিবিরগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। তীব্র সংঘর্ষের পর তারা সরকারি বাহিনীর কাছে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেছে। এতে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এসডিএফ পিছু হটতে শুরু করলে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। তখন কারাগারে বন্দি থাকা ‘সন্ত্রাসীরা’ মুক্তি পেতে পারে।
সোমবার রাক্কা শহরের কাছের আল-আকতার, দেইর আল-জোর এবং আল শাদ্দাদি শহরের কাছের কারাগারগুলোর বাইরে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। এসব কারাগারে কয়েক হাজার আইএস সদস্য বন্দি আছে। ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-আকতার ও দেইর আল-জোর থেকে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী পালিয়ে গেছে। ফলে সীমান্তে তারা বাড়তি সদস্য মোতায়েনে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে এসডিএফ জানিয়েছে, তারা আল শাদ্দাদি কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। সেখানে আইএস সংশ্লিষ্ট সহস্রাধিক ব্যক্তি বন্দি ছিল। কতজন পালিয়ে গেছে তা নিশ্চিত নয়। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য সরকারের চেষ্টা ‘গুরুতর নিরাপত্তা সংকট’ তৈরি করতে পারে। এটি স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের পথ খুলে দেবে।
এএস/

