আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইরানের নিন্দা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৩
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইউরোপের এই পদক্ষেপকে ‘দ্বিমুখী আচরণ’ এবং ‘বিদ্বেষপ্রসূত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরান সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিমারা একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের চালানো নৃশংসতার বিষয়ে নীরবতা পালন করছে, অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনীকে টার্গেট করছে। তেহরান এই বিষয়টিকে ইউরোপের ‘সিলেক্টিভ আউটরেজ’ বা ‘বাছাই করা ক্ষোভ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরানের দাবি, আইআরজিসি একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং একে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করা নজিরবিহীন ও বিপজ্জনক।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাবি করেছে, ইরানের অভ্যন্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহসহ বিভিন্ন অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে তারা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ইইউ জোটের সদস্যরা আইআরজিসি-কে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের সাথে ইউরোপের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ইউরোপের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।
জবাবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
এমএইচএস

