মার্কিন আক্রমণের সম্ভাবনা : আঞ্চলিক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি খামেনির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৯
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তা পুরো অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিতে পারে— এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানের চারপাশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে থাকায় সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই রণতরী পাঠানোর হুমকি দেন। তবে এসব দেখে ইরানি জাতি ভয় পায় না। তিনি বলেন, ইরান কখনো আগ্রাসনের সূচনা করবে না, কিন্তু কেউ আক্রমণ বা হয়রানি করলে কঠোর জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
খামেনির ভাষায়, ইরানি জনগণ হুমকিতে বিচলিত নয় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আত্মরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
তবে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এমন ন্যায্য আলোচনায় প্রস্তুত, যা দেশের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ড্রপ সাইট নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে যেকোনো সয় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই হামলার লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নয়; বরং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সরকার পরিবর্তনের কৌশলও থাকতে পারে।
মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীদের ধারণা, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নেতৃত্ব দুর্বল করা গেলে ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের গণআন্দোলন তৈরি হতে পারে। এক সাবেক শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ধরনের অভিযানের পক্ষে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন এবং তেহরানে পশ্চিমঘেঁষা সরকার গঠনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে শুক্রবার ওভাল অফিসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেও ইরানের দিকে বড় মার্কিন নৌবহর অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। অঞ্চলজুড়ে তাই এখন চরম সতর্কতা বিরাজ করছে।
এসএসকে/

