রয়টার্সের প্রতিবেদন
বিশ্বের প্রথম জেন–জি প্রভাবিত নির্বাচন বাংলাদেশে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৩৮
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশে বিরোধী দলের উপস্থিতি ছিল প্রায় অনুপস্থিত। বিরোধী দলগুলো অনেক সময় নির্বাচনে অংশ নিত না, আবার সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাদের কোণঠাসা করে রাখা হতো। তবে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২৪ সালের গণ–আন্দোলনে সরকার পতনের পর দেশের তরুণরা মনে করছেন, এই ভোট হবে ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। ওই বছর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটটি শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৩০ বছরের কম বয়সী জেনারেশন জেড–নির্ভর নতুন দল এনসিপি তাদের গণ–আন্দোলনের ভিত্তিকে ভোটে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়েছে।
বিএনপির প্রধান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, তাঁর দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে নির্বাচন করছে এবং সরকার গঠনের ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী।
বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর ছয় মাসের অস্থিতিশীলতায় শিল্প খাত, বিশেষ করে গার্মেন্টস খাত, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের ভূমিকাকেও প্রভাবিত করতে পারে। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘মতামত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনো অনির্ধারিত।’
বাংলাদেশে জেনারেশন জেড মোট ভোটারের প্রায় এক–চতুর্থাংশ। ফলে এ প্রজন্মের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পোস্টার ও ব্যানার চোখে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত–নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকতে পারে। পাকিস্তান মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বেশি সংযুক্ত।
এই নির্বাচনে দারিদ্র্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং স্থবির বিনিয়োগ নিয়ে জনগণের উদ্বেগ সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ঢাকা–ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ও জনমত জরিপ অনুযায়ী, ভোটারদের প্রধান দাবি দুর্নীতি দমন এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি।
বিএনপির তারেক রহমানকেই এখনো পরবর্তী সরকারের প্রধান মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর জামায়াত–নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হলে জোটের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শীর্ষ পদে আসতে পারেন।
প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ২১ বছরের মোহাম্মদ রাকিব বলেন, তিনি আশা করেন নতুন সরকার মতপ্রকাশ ও ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেবে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ আগের আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর ক্লান্ত ছিল। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না, মানুষের কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। আশা করি, নতুন সরকার—যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন—এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।’
সূত্র: রয়টার্স
এএস/

