সাইবার বুলিং থেকে উত্তরণের আইনি পথ : নীরবতা ভাঙার সময় এখন
বায়েজিদ তাশরীক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১
ডিজিটাল বাংলাদেশে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার আড়ালে বেড়ে চলেছে সাইবার বুলিং- অনলাইন হয়রানি, হুমকি, মানহানি ও ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহার। কিশো-কিশোরী থেকে শুরু করে নারী, পেশাজীবী, কেউই এর বাইরে নয়। ভুক্তভোগীরা প্রায়ই লজ্জা, ভয় কিংবা আইনি অজ্ঞতার কারণে নীরব থাকেন। অথচ নীরবতাই অপরাধীদের সাহস জোগায়। তাই সাইবার বুলিং থেকে উত্তরণের আইনি পথগুলো জানা ও প্রয়োগ করা আজ সময়ের দাবি।
প্রথমত, আইনের স্বীকৃতি ও অভিযোগের অধিকার। সাইবার বুলিং আর “তুচ্ছ অনলাইন ঝামেলা” নয়; এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অনলাইনে অপমান, হুমকি, কুৎসা রটনা, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে হয়রানি, ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার, এসবের বিরুদ্ধে দেশে প্রযোজ্য সাইবার আইন রয়েছে। ভুক্তভোগীরা নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেন কিংবা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং প্রমাণ সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রমাণ সংরক্ষণ ও ডিজিটাল ফরেনসিকের গুরুত্ব। আইনি লড়াইয়ে প্রমাণই মূল শক্তি। স্ক্রিনশট, লিংক, সময়-তারিখসহ কথোপকথনের কপি, প্রোফাইলের তথ্য, এসব সংরক্ষণ করলে তদন্ত সহজ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ইউনিট ডিজিটাল ফরেনসিকের মাধ্যমে অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারে।
তৃতীয়ত, প্ল্যাটফর্মভিত্তিক প্রতিকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নিজস্ব রিপোর্টিং ব্যবস্থা রয়েছে। হয়রানিমূলক কনটেন্ট রিপোর্ট করলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত অপসারণ ও অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনি অভিযোগের পাশাপাশি এই পথটি ব্যবহার করলে ক্ষতি কমানো সম্ভব।
চতুর্থত, ভুক্তভোগী সুরক্ষা ও গোপনীয়তা। আইন কেবল শাস্তি নয়, সুরক্ষাও নিশ্চিত করে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ করার সুযোগ থাকে, বিশেষত সংবেদনশীল মামলায়। এতে ভুক্তভোগীর মানসিক নিরাপত্তা বজায় থাকে।
পঞ্চমত, সচেতনতা ও প্রতিরোধ। আইনি পথ কার্যকর করতে সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগে ডিজিটাল শিষ্টাচার শেখানো, আইনের কথা জানানো এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। শেষ কথা, সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্র ও সমাজেরও দায়িত্ব। আইনের সঠিক প্রয়োগ, দ্রুত বিচার ও সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণই পারে অনলাইন জগৎকে নিরাপদ করতে। নীরব না থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়াই হলো উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

