Logo

আইন ও বিচার

পলাতক বাচ্চু রাজাকারের আত্মসমর্পণ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৯

পলাতক বাচ্চু রাজাকারের আত্মসমর্পণ

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার দীর্ঘ এক যুগ পর আত্মসমর্পণ করেছেন। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় সশরীরে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণের আবেদন দাখিল করেন। 

তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় আবেদনের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

ফরিদপুরের এই আলোচিত যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১১ সালে বিচার শুরু হয়। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালেই তিনি সীমান্ত দিয়ে ভারতে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতেই ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রথম রায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পলাতক থাকার পর গত বছরের অক্টোবরে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করে।

বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে ফরিদপুর অঞ্চলে সংঘটিত আটটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে সাতটিই ট্রাইব্যুনালে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। রায়ে তার বিরুদ্ধে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটকে রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। ফরিদপুর অঞ্চলে ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত এই রাজাকারের হঠাৎ প্রকাশ্যে আসা এবং সরকারি আদেশে সাজা স্থগিত থাকা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পলাতক থাকার কারণে এতদিন তার আপিল করার সুযোগ ছিল না। এখন আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করার সুযোগ নিতে চান। তবে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা স্থগিত থাকা অবস্থায় আত্মসমর্পণের এই ঘটনাটি বিচারিক ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন, এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি কোন দিকে মোড় নেয়।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর