পোস্টাল ভোটে কোনো ছাড় নয়, অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা : ইসি সানাউল্লাহ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২০
প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই উদ্যোগকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম, ছাড় বা আপস করা হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কমিশন। কেউ পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামান্যতম ব্যত্যয়ে জড়িত হলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক, ফৌজদারি মামলা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনার জানান, আউট অব কান্ট্রি ভোটিংয়ের আওতায় বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে কমিশনের কাছে একটি ব্যালটও অবশিষ্ট নেই; সবগুলোই ডিসপ্যাচ সম্পন্ন হয়েছে।
এই ব্যালটগুলোর মধ্যে ৫৯ হাজার ৫৮৪টি এখনো ট্রানজিটে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার ব্যালট হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
ভুল ঠিকানায় ৪,৫২১ ব্যালট ফেরত
ভুল ঠিকানার কারণে কিছু ব্যালট ডেলিভার না হয়ে ফেরত এসেছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট আনডেলিভারড হয়ে ফেরত এসেছে, যার বেশিরভাগই এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেরত এসেছে ইতালি থেকে। বিষয়টি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
একই ঠিকানায় শতাধিক ভোটার
মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার মতো লেবার-ইনটেনসিভ দেশগুলোতে প্রবাসীরা সীমিত জায়গায় বসবাস করায় একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে জানান কমিশনার।
অনেকে পোস্ট বক্স, দোকান বা নিকটস্থ কোনো স্থানের ঠিকানা ব্যবহার করেন বলেও জানান তিনি।
ভিডিও ক্লিপ নিয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টাল ব্যালট বিতরণসংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনটি দেশের ভিডিও ক্লিপ যাচাইযোগ্য প্রমাণ হিসেবে পাওয়া গেলেও কোথাও এখন পর্যন্ত ইলেক্টোরাল ইন্টিগ্রিটি লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলেনি বলে জানান তিনি।
১১ জানুয়ারি বাহরাইনে একটি এলাকায় একসঙ্গে অনেক ব্যালট বিতরণের ভিডিও পাওয়া যায়। ওই এলাকায় ১৬০ থেকে ২৩৩ জন বাংলাদেশি একই স্থানে বসবাস করেন। বাহরাইন পোস্টকে নোট ভার্বাল দেওয়া হয়েছে এবং সিপিআর (জাতীয় পরিচয়পত্রের সমতুল্য) দেখানো ছাড়া ব্যালট না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌদি আরব উল্লেখ করা কিছু ভিডিও যাচাই করা যায়নি এবং এগুলো সম্ভবত ভুয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবে ইকামা বা পাঁচ ডিজিট কোড ছাড়া ব্যালট হস্তান্তর করা হয় না।
ওমানে পাওয়া একটি ভিডিও সত্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্ট বক্স ব্যবহারের কারণে সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট ছাড়া ব্যালট না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেও ব্যালট হস্তান্তর করা হচ্ছে না।
কুয়েতে একটি ভিডিও পাওয়া গেলেও কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুয়েত পোস্টে নিচের স্তরে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি কর্মচারী উৎসাহবশত ভিডিও ধারণ করেছেন, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে জানানো হয়।
আবুধাবি, দুবাই, কাতার, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলেও জানান কমিশনার।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে এনআইডি ব্লক, ফৌজদারি মামলা এবং প্রয়োজনে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। সিআইডিও (CID) বৈঠকেও এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক হতে পারে
তিনি জানান, প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। লাইভ ভেরিফিকেশন ছাড়া কোনো ভোট গ্রহণ করা হবে না—এমন সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
ব্যালট ও অঙ্গীকারপত্রে সিরিয়াল নম্বর
অঙ্গীকারপত্র ও ব্যালটে একই সিরিয়াল নম্বর থাকা গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয় বলে জানান কমিশনার। এটি একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।
দেশের ভেতরের ভোটের জন্য এখনো কোনো ব্যালট ডিসপ্যাচ হয়নি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ব্যালট ছাপানো হবে। আগামীকাল কমিশনের বৈঠকে প্রবাসে পাঠানো ব্যালটের বদলে দেশে একচুয়াল ব্যালট ব্যবহারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এসআইবি/আইএইচ

